পৃথিবীর গাড়িটা থামাও




   ভোট!  বৃহত্তম লোকতন্ত্র!  গনতন্ত্র!  উন্নতি!  ভ্রষ্টাচার! সততা!  

 শব্দগুলি বেশ কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল টিভির পর্দায়।  চা-ওলা দেশের প্রধানমন্ত্রীত্তের দাবিদার।  এই প্রচারের অর্থ ঠিক বুঝি না, বোঝা যায়ও না এসবের মানেটা কি?  চা-ওলার উন্নতির অধিকারতো স্বাভাবিক।  সেইতো সু-গনতন্ত্রের প্রকৃত অধিকারী।  দেশতো স্বাধীনতো হয়েছিল সমাজের দূর্বলদের কারনেই।  আমরা ভাবতে পারিনি অথবা স্বাধীনতার অধিকার প্রচারের আলোয় আসেনি, বা পড়ে পাওয়া স্বাধীনতার দেশে জন্ম নেওয়াটায় আমাদের না বোঝার মূল কারন।  তবে কৈশরে এটুকু অবাক হয়ে দেখেছিলাম, বুঝেছিলাম যদি কেউ সত্যিকারের ইচ্ছে ধরে সে এদেশেও ইনফোসিস-উইপ্রো খাড়া করতে পারে।  স্যরি ধীরুভাই-এর প্রতি শ্রদ্ধা রেখেও এই দুজনের নাম নিলাম, কারন এই দুই উদ্যোগ শুধুই নলেজ বেস্ড ও মধ্যবিত্তের মধ্যবিত্ততার উর্দ্ধে উত্তরণের কাহিনি।  আর চা-ওলার উত্তরণের সম্পর্কে একটাই কথা বলা যায়- যদি স্বয়ং-এর ইচ্ছে প্রবল হয় পথ খুলে যায় সৎ ইচ্ছে পূরণের কারনে।

আমার মনে হয়, আমাদের দেশ শুধু নয় গোটা বিশ্বেই আশির দশক টেকনোলজির ক্ষেত্রে অনেক বদল এনে দেয়।  বদলে যায় যোগাযোগ ব্যাবস্থা।  আমূল বদল ঘটে মধ্যবিত্ততার মানসিকতার।  গুগুল না ইয়াহু কে বড় না ঠিক করেও বলা যায় নিঃসংকোচে যোগাযোগ ব্যাবস্থা বড়।  তা না হলে উন্নতির পথের কাঁটা উপড়ানো যেত না।

তবে এ উন্নতি আত্মিক-মানসিক বা শারীরিক নয়।  উন্নতির অর্থ আমাদের সমাজে শুধুই জড়বস্তুর লাভালাভে।  আমরা ভাবতেই পারিনি গাছের গোড়ায় জল দিয়ে গাছ বাড়ানো সম্ভব।  এদেশে বহু নাম না জানা মানুষ আছেন যাঁরা উন্নতির চরম শিখরে পা রেখেছেন শুধুই গাছের গোড়ায় জল দিয়ে।  পথ ওটাই।  লক্ষ্য কখনও পথ হতে পারে না।  পথে পা রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছোনো যায়।  জীবন নামের গাছটি জল না পেলে কখন মারা যায় আমরা কেউই জানতে পারি না।  ভাবি বেঁচে আছি, কিন্তু নেই।  এপথে পা রাখলে ভিখিরিও রাজা হতে পারে, না রাখলে রাজারও ভিখিরির দশা হয়। 

আজকের আমি ও আশির দশকের আমি'র অনেক তফাৎ- এ পরিবর্তন চিন্তায়-ভাবনায়-দেখায়।  ছোটো শহরে বড় হওয়া ছেলের প্রথম কালার টেলিভিশান দেখার অভিজ্ঞতা, দেখার অভিজ্ঞতা প্রথম কম্পিউটারের, প্রথম গুগুল করার সৌভাগ্য আমার মত অনেকই মধ্যবিত্তের চিন্তায় আমুল বদল এনে দিয়েছিল।  বদলে ছিল চিন্তা-ভাবনার বৃত্ত।  আমার মত হাজার হাজার মানুষের জীবনে ইন্টারনেটের আগমন আশীর্বাদ রুপে।  তারপর এসেছে অর্কুট, ফেসবুক নামের সোশাল-নেটওয়ার্কিং সাইটগুলি।  মূহুর্তে ইমেজ বন্দি করে আনা ইন্স্টাগ্রাম বদলে দেবার ক্ষমতা ধরে সোশাল স্ট্রাকচারের।  তবুও আমরা বলি দেশ উন্নতি করে নি।  আসলে দেশ উন্নতি করে নি একথাটা ঠিক, কারন দেশ উন্নতি করেছে নয় দেশ বদলে গেছে।  শুধু দেশ নয় গোটা পৃথিবীটাই বদলে গেছে ও যাচ্ছে দ্রুত প্রতিনিয়ত প্রতিক্ষনে। 

এখন বোধহয় বলার সময় হয়েছে সলিল চৌধুরীর গানের ভাষায়- এইই রোকো পৃথিবীর গাড়িটা থামাও।  পরের লাইনটা লিখতে গিয়ে থমকে গেলাম. আমি নেমে যাব লিখতে পারলাম না।  বোধ হয় বলার সময় হয়েছে - আমি পড়ে যাব, না বদলালে !     


       

Popular Posts