ক্ষ্যাপা....


 ফেসবুকে আই পি এল এর ইন্ফো আপলোড দেখে অবাক হয় অনীক।  আর কত দিন মানুষ এভাবে বাঁচবে?  এইতো সেদিন অফিসের কথায় ধরা যাক না কেন- সকলের আড্ডার আসরে অনীক প্রায় বেবাক হয়ে ছিল।  শেষ কবে ক্রিকেট দেখেছে মনে পড়ে না।  আই পি এল তো বহুদূরের কথা।  অথচ সেই বয়সে পাঁচ দিনের খেলাও বসে দেখে কাটিয়েছে।  গাভাসকারের ব্যাটিং যেন সে নিজেই করত।  বোকার হদ্দ!

এখন সবকিছু ও সবাইকে দেখে তাই মনে হয়, সেটা বলা উচিৎ কিনা ঠিক বুঝে উঠতে পারে না।

কোনোও এক সময় মাথায় ঢুকেছিল ওরা খেলছে আমরা দেখছি।  রিফ্লেক্টেড গ্লোরি!  অনেক কিছুই মনে পড়ে- সে প্রায় বিশ-তিরিশ বছর আগের ইতিহাস।  

ওয়ার্ল্ড কাপ সেমিফাইনালের হার।  ফাইনাল হয় ইডেন নইলে পাকিস্তান।  না পারিনি আমরা- তখন এইভাবেই একাত্ম হয়েছিলাম ক্রিকেটের সাথে।  ভেতরে এক অদ্ভূত ক্ষোভ জন্মেছিল গাভাসকারের ওপর-  যেন সে ইচ্ছে করেই আউট হয়েছিল।  কেঁদেছিল, হ্যাঁ ভীষণ কেঁদেছিল অনীক।  সে সময়ের কথায় আলাদা।

মনে পড়ে না ঠিক কোন সাল।  মরচে পড়েছে স্মৃতির কুঠরিতে।    পাকিস্তান বনাম ইন্ডিয়া টেস্ট ম্যাচ, বোধহয় ম্যাড্রাস বা ব্যাঙ্গালোর।  ভারতের ব্যাটিং চলছে স্পিনিং উইকেটে শেষ ইনিং - বোলার আব্দুল কাদির ও তৌফিক আহমেদ।  বল ঘুরছে যেভাবে সেভাবে।  ব্যাট হাতে দঁাড়ানোয় প্রায় দুঃসাধ্য ব্যাপার।  সেই মাঠেও প্রিয় গাভাসকারের ব্যাটিং দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল।  সে ছিল এক লড়াই, সে যেন বুঁদির কেল্লা রক্ষার লড়াই।  গাভাসকার পারেন নি, কিন্তু অনীক দেখেছিল তার চোখের জল।

অনেক দিন পর আরেক লড়াই দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল, শচীন বনাম পাকিস্তান।  স্থান ও পট প্রায় একই।  ফেল করেছিল শচীন, কিন্তু পাশ করেছিল ক্রিকেট।    

আরোও অনেক কান্নায় টাটকা স্মৃতির ভাঁড়ারে হানা দেয়।  সে ছিল এক রঞ্জি ট্রফির ফাইনাল।  বম্বে ভার্সাস হরিয়ানা, তখনও বম্বে মুম্বাই হয় নি।  আসলে কপিলদেব বনাম ভেঙ্গ্সরকার।  কপিল ডাকত তাকে ছোটে নবাব।  নিজের শেষ শক্তি দিয়েও ভেঙ্গ্সরকার জেতাতে পারেন নি সেই ম্যাচ।  আমরা গুটিকয়েক টিভির দর্শক দেখেছিলাম তার মাঠে শুয়ে কান্না ও কপিলের সমবেদনা।  আর কিছু না হোক ক্রিকেটের জয় হয়েছিল নিশ্চিত।

অনীক সেই দলের মানুষ নয় যে এই সময়ের সব কিছুই খারাপ বলে।  কিন্তু মানুষ কোথায় এসে পৌঁছেছে যে সমস্ত কেলেংকারির পরেও ক্রিকেট দেখে।  তার পেছনে সময় নষ্ট করে।  উত্তর খুঁজে লাভ নেই। কাউকে বলেও হবে না রিফ্লেক্টেড গ্লোরি হয়ে ওঠার মধ্যে কৃতিত্ব নেই।

এ কথা শুনেই বা কি হবে ফেসবুকে বা নিউজ এজেন্সি মারফত-- কত কোটি টাকা দিয়ে কোন প্লেয়ার কেনা হোল?  কোন দলের কোন মালিক কোম্পানি না বাঁচাতে পারলেও চিয়ার লিডারদের সাথে মোচ্ছবে মত্ত?  কোন দলনায়ক কত টাকার বেটিং লড়ে ধরা পড়েও গা বাঁচাতে পারে?  কোন ওভারে কত গুলো নো বল হবে তারও স্পেকুলেশান হয়!  তা মানুষ বলেও, মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ ধন-সম্পদ বাড়ায়।  ধন্য ভারত ও তার রক্ষাকর্তা!  ধন্য ক্রিকেট দেবতা! 

অনীকের সকলকে দেখে নিজেকে মূর্খ বোধ হয়।  কখনোও বা বোধহয় ক্ষ্যাপা খুঁজে খুঁজে ফিরে পরশ পাথর যেন তাকে ভেবেই লেখা।  সে তো ক্ষ্যাপাই, তা না হোলে সততার জয় খোঁজে এ-সময়!  স্বপ্ন দেখে এই কালরাত্তিরে সে গাইবে গান " জয় ক্রিকেটের জয়! "

পাপা ও পাপা ডাকে অনীকের ঘোর কাটে।

কি হোল?

তুমি যে লিখেছ কুন্তীবুড়ো খুন্তি ধর, বেলা তো পড়ে এল রান্না কর।  এর মানে?

অনীক মুচকি হাসে, উত্তর দেয় না, কিইবা উত্তর এর।  কুন্তীবুড়োই তো ক্ষ্যাপা.... কিইবা তার লেখা, কিইবা তার মানে, খুঁজে চলেছে পরশ পাথর। 

    

Popular Posts