মানুষ, মুর্গি ও এসকালেটার

প্রায় বছর দশেক আগের কথা হবে এক ভাই একদিন এসে বলল দাদা - এই ডিভিডিটা দেখো, ভাল লাগবে।
খুব একটা গুরুত্ব না দিয়েই নানা কাজে ব্যাস্ত হই। পরে একদিন নিষ্কর্মার জীবন কাটাতে গিয়ে খেয়াল হয় সেই ডিভিডি'র কথা। স্বপ্নের মত কেটেছিল প্রায় একঘন্টা দশ মিনিট। হ্যাঁ ডকুমেন্টারির নাম " বারাকা "। বিষয় হিউম্যান ইভলিউশান ও স্পিরিচুয়্যালিসম নিয়ে। ডিরেকটারের নামটা এখন আর মনে করতে পারি না তবে যতদূর সম্ভব রন ফ্রিক। এ প্রায় দশবছর আগের ঘটনা। স্মৃতির বিট্রে করা স্বাভাবিক বলেই মনে হয় কারন এ-দশ বছরে কত মিলিয়ন মুহুর্ত কেটে গেছে ও কত ফ্রেমের মধ্য দিয়ে আমার মস্তিষ্ক পেরিয়েও মনে রেখেছে ঐ নির্দিষ্ট ডকুমেন্টারির কথা তা মুভিটির বিষয় ও উপস্থাপনা'র গুনেরই পরিচয় দেয়। অসংখ্য দৃশ্যের মাঝে একটি দৃশ্য ভুলতে পারিনি তা হলো মুরগিদের কন্ভেয়ার বেল্টের সাহায্যে প্যাকিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ঠিক পরের শটটাই মেট্রো রেল থেক মানুষ বেরিয়ে এসকালেটারে চড়ে বাইরে বেরোচ্ছে। তারই মাঝে কোনোও মুরগি পড়ে যাচ্ছে ওপর থেকে নিচে, কেউবা নিচ থেকে ওপরে। কনভেয়ার বেল্ট ও এসকালেটরের মাঝে কোনোও তফাৎ খুঁজে পায় না আমি। মনে পড়ে যায় এক পুরোনো বাংলা ব্যান্ড-এর গান- ঘুরে ফিরে সেই একই কথা... ডাঁয়ে বাঁয়ে আর আগু পিছু..
আর প্রায় দশ বছর পর এক বড় শহরের বড় স্টেশনের এসকালেটারে চড়তে গিয়ে নিজেকেও সেই মুরগিদেরই একজন মনে না হওয়াটায় অস্বাভাবিক। এসকালেটারে চড়ি আর নিজের মনেই হাসি। হঠাৎই নজরে পড়ে পাশের ছোটো স্কার্ট পরা মেয়েটির ফর্সা হাতের নেলপালিশের দিকে, সাদায় গাঢ় লাল বেশ এ্যাট্রাকটিভ, ধীরে ধীরে মন বিক্ষিপ্ত হয়ে নগ্ন হাত-পা'র অংশের দিকে নজর পড়ে। টানটান চেহারা! মানুষের মন জলের মতই ওপর থেকে নিচেই যেতে চায়! কি আর করা অগত্যা নিজের ইন্স্টিঙ্ক্টকেই ফলো করে হাঘরের মত মুখ দেখার অবিরাম চেষ্টা করতে থাকি। মুখটি দেখার পর নিজেকেই গালাগালি দিতে ইচ্ছে করল। কে জানে আর কতকাল এই অভ্যাস থাকবে। অবশ্য সুন্দর ও সৌন্দর্যের প্রতি অমোঘ আকর্ষণ আমাদের সবার, পুরুষ-নারী নির্বিশেষে।
আজ সক্কালেই সেই ভাই-এর ফোন এসেছিল। বেশ উত্তেজনা নিয়েই বলে, দাদা মনে আছে তোমায় একবার " বারাকা " সিনেমাটা দিয়েছিলাম।
" হ্যাঁ বল।" শান্ত স্বরে আমি উত্তর দিয়ে স্কুটার পরিস্কারে ব্যাস্ত হই।
আমায় এক ভদ্রলোক দিয়েছিলেন তার সাথে হঠাৎই দেখা। উনি বেশ কষ্টের মধ্যে আছেন। আমি আমার মত করে কিছু কাজ জোগাড় করে দিলাম। তুমিও একটু দেখ।
আমি শুনলাম, হ্যাঁও বললাম। কিন্তু ব্যাস্ত হলাম বাড়ির নিচের এক চিকেন শপে নজর দিতে যদি দেখা যায় মোরোগ ও মুরগির ভাবভালবাসার রসায়ন। সেদিনের সেই এসকালেটারের ঘটনার পর আমি খুঁজেই চলেছি মুর্গি ও মানুষের শরীরি কাহনের রহস্য। কি সেই কাহন যা আমাদের মানুষ বানিয়েও মুর্গি করে রেখেছে!
কোঁকোর কোঁ শব্দে চিন্তার সুত্রগুলো ছিন্ন হয়। দেখি শপ ওনার কশাই আমার দিকেই তাকিয়ে, একহাতে মুরগি ও অন্য হাতে একটা বড় ছুরি। টপ টপ করে রক্তের ফোঁটা হাত বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে! ধন্য মানুষ ধন্যঃ নিজেও মরছে, অন্যকেউ মারছে।

Post a Comment

Popular Posts