হামিং বার্ড

জীবন দেবতা শব্দটা প্রথম যখন শোনে খানিক অবাক হয়েছিল। মনে হয়েছিল এ আবার কোন দেবতা!
সময় এগোয় কৈশোর থেকে যৌবনে। রক্ত শরীরে আরোও বেশি প্রবাহিত হতে শুরু করে । গরম রক্ত সবলে এগিয়ে চলে। ভাঙতে চায় রাহুর সমস্ত প্রতাপ। কেউ পারে কেউ পারেনা। যে পারে সেই জীবন দেবতার স্নেহধন্য হয়। বাকিরা ব্যর্থ।
মানুষ গোটা জীবনটাই ভয় পেয়ে কাটিয়ে দেয়। ঠাকুরের বানী - লজ্জা ঘৃণা ভয় তিন থাকতে নয়। মানেটা বুঝিয়ে দেবার জন্য কেন যে সঠিক সময় জীবন দেবতা পাশে থাকেনা!
ছেলেবেলায় খেলাচ্ছলে আমরা অনেক কথায় শিখি - এই যেমন "যে সয় সে রয়" অথবা - ফুল মাটি পাতা লতা মিলিয়ে নিলে স্বর্নলতা।
প্রথমটা সকলের শোনা, পরেরটা বাচালতা আমার। মানে আছে তবে জীবন দেবতা শিখিয়ে দিলে ভাল হয়।
এই যেমন সকালে ন্যাট-জিও খুলে বসেছিলাম। এক জিরাফ বাচ্চাকে ধরেছে তিনটে হায়না। জ্যান্ত কামড়ানো শুরু। সময় যত এগোয় জিরাফ বাচ্চা দূর্বল হয়। শেষে প্রাণটাই দান করে। প্রকৃতির অদ্ভুত লীলা! খাদ্য-খাদক !
ওলা-উবার-গ্রফার-ওয়ে-রুম আরোও নানান নামগুলির সাথে আমরা কমবেশি পরিচিত। এদেরকে বলা হয় সার্ভিস প্রভাইডার। কেউ-কেউ বলেন - এগ্রিগেটর। সকলকে জুড়ে নিয়ে বিশ্বব্যাপী বানিজ্য।
কখন যেন জীবন দেবতা এদের সহজ বুদ্ধি দিয়ে গেছেন - ফুল-মাটি-লতা-পাতা মিলিয়ে নিলে স্বর্নলতা।

এবার আসি অন্য কথায় ...

ভোরের ঘুম ভাঙলে অনেকেরই কাজ ফুরিয়ে যায় - ঘুমোনোর কাজ। গভীর রাতে জেগে থাকা অভ্যাস আর বেলা বাড়লে ওঠা এই আমার এক বন্ধুর অভ্যাস। রাত্তির জাগা মানুষ পুরোনো দিনে হয় মাতাল নয় সাধু এই দুইই হতো, সময় বদলেছে মানুষ ও তার কাজের ধরন বদলেছে। এখন কল-সেন্টারের কল্যানে অনেকেই কাজে রাত জাগেন। অবশ্য আমার এই বন্ধু সেইরকম কর্মী মানুষ নন। তার কাজের ধারাটাই অন্যরকম - এই যেমন এখান-সেখান থেকে কোটেশান জোগাড় করা। তারপর পেস্ট ও পোস্ট করলেই হলো। তাহলেই পন্ডিতি সাজা সম্পূর্ণ হলো!
সেই বন্ধু হঠাৎ ফোন করে বলে - পাগল-পাগল লাগছে।
- কেন কি হলো?
- কিছু না। ইউটিউবে কাল একটা সিনেমা দেখলাম।
- তো!! আমি বোকা মূর্খ মানুষ। প্রশ্ন করে বসি।
- একদম কপি!!
- মানে একদম কপি!! হুবহু!!
বন্ধুকে দেখলাম বেশ উত্তেজিত। উত্তেজনার বসে বলেই ফেলে "আর সিনেমাই দেখবো না।"
শান্ত মানুষ আমি, তাই বলি - ওরে সকলেই আমরা কিছু না কিছু কপি করছি। ওগুলো নিয়ে ভাবতে নেই। তুই না করলেই হলো।
এবার আচমকা বলে বসে - শালা ঐ পত্রিকাতে একটা রম্য রচনা দিলাম। ছাপলো তো না, উল্টে নিজের লোক দিয়ে ম্যানিপুলেট করে সাপ্তাহিকীতে ছেপে দিল!!
এবার বুঝলাম বন্ধুর আসল রাগের কারন।
আবার বলতে হলো - ওরে এখন রবীন্দ্রনাথকেও মানুষ কপি করে নতুন কিছু বানিয়ে ফেলছে। তুই তো কোন ছার।
বন্ধুর মাথাটা একটু ঠান্ডা হয় বোধহয়। বেশ উৎসাহ নিয়ে বলে - কাল একটা লেখা দিয়েছি ঐ পত্রিকাতেই ...
- আবার !!
- হ্যাঁ। দেখতে চাই কতদিন কপি করতে পারে!
প্রায় মাসখানেক পর বন্ধুর একটা মেসেজ আসে - এবারে ছেপেছে।
সেই লেখার একটা ভাল লাগা অংশ তুলে দিলাম -
"ভোরের ব্যলকনিতে দাঁড়িয়ে জামগাছের দিকে তাকায়। ছোট্ট এক নাম না জানা পাখী বসে আছে। কুট-কুট করে খুঁটে খাচ্ছে। হালকা ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে পাতাগুলোর জেল্লা বেড়েছে। ভাল লাগে। মন ভাল হয়। ব্যলকনির লাল পাতাবাহার ফিসফিসিয়ে বলে - ঐ জামগাছ হতে পারিস না। চুপচাপ থাকবি। স্থির হবি। পশুপাখী আসবে নির্ভয়ে। সময়ে ফল দিবি। বৃষ্টি এসে স্নান করিয়ে যাবে - বাইরে ভেতরে।"
এই প্রথম নিশ্চিত হই ছোট্ট পাখীটা এখনো বসে গান করে চলেছে বন্ধুর ভেতরে।  এই ছোট্ট পাখীটাই জীবন দেবতা।  কেউ বলে হামিং বার্ড। 
Post a Comment

Popular Posts