হোয়াট্সঅ্যাপ সাহিত্য -- ২

                                                                  

                                              (১) 

জীবন দেবতা শব্দটা প্রথম যখন শুনি খানিক অবাক হয়েছিলাম।  মনে হয়েছিল আবার কোন দেবতা। রক্ত শরীরে আরোও বেশি প্রবাহিত হতে শুরু করলো কৈশোর থেকে যৌবনে। গরম রক্ত সরব যৌবন সবলে এগিয়ে চলে। ভাঙতে চায় রাহুর সমস্ত প্রতাপ। কেউ পারে কেউ পারেনা। যে পারে সেই জীবন দেবতার স্নেহধন্য হয়। ব্যর্থ মানুষেরা গোটা জীবনটাই ভয় পেয়ে কাটিয়ে দেয়।
রামকৃষ্ণ বলেছিলেন - লজ্জা ঘৃণা ভয় তিন থাকতে নয়। মানেটা বুঝিয়ে দেবার জন্য কেন যে সঠিক সময় জীবন দেবতা পাশে থাকেনাছেলেবেলায় খেলাচ্ছলে আমরা অনেক কথায় শিখি - এই যেমন যে সয় সে রয়, বা ফুল মাটি পাতা লতা মিলিয়ে নিলে স্বর্নলতা।
প্রথমটা সকলের শোনা, পরেরটা বাচালতা আমার, মানে আছে তবে জীবন দেবতা শিখিয়ে দিলে ভাল হয়। এই যেমন সকালে ন্যাট-জিও খুলে বসেছিলাম। এক জিরাফ বাচ্চাকে ধরেছে তিনটে হায়না। জ্যান্ত কামড়ানো শুরু। সময় যত এগোয় জিরাফ বাচ্চা দূর্বল হয়। শেষে প্রাণটাই দান করে। প্রকৃতির অদ্ভুত লীলা!
আধুনিক শহরগুলিতে সকলেই ওলা উবার গ্রফার ওয়ে-রুম আরোও নানান নামগুলির সাথে পরিচিত। এদেরকে বলা হয় এগ্রিগেটর। সকলকে জুড়ে বিশ্বব্যাপী বানিজ্য। কখন যে জীবন দেবতা সহজ বুদ্ধি দিয়ে গেছেন - ফুল মাটি লতা পাতা মিলিয়ে নিলে স্বর্নলতা!

                                               (২)

ভোরের ঘুম ভাঙলে কাজ ফুরিয়ে যায়- ঘুমোনোর কাজ। গভীর রাতে জেগে থাকা অভ্যাস আর বেলা বাড়লে ওঠা এই অলীকের অভ্যাস। মাঝরাতে মানুষ হয় মাতাল নয় সাধু এই দুই হয় - মাঝামাঝি নয়। তবে সাধুতো হওয়া সহজ নয় তাই সেজে বসে। এই যেমন এখান-সেখান থেকে জোগাড়ের মত কোটেশান জোগাড় করা, তা সে নিজে ফলো করুক বা নাই করুক। ব্যস, এবার পেস্ট বা পোস্ট করলেই হলো। তাহলেই সাধু সাজা সম্পূর্ণ হয়!
অলীক বোকা মূর্খ মানুষ। অত ভেবে চলে না, যা ভাল্লাগে তাই করে ভাল না লাগলে করেনা। কিন্তু গত তিনদিন ধরে সামাজিক জালগুলিতে নানান পোস্ট দেখে চক্ষু চড়কগাছ। কেউ বলছে - ঈশ্বর তোমার সাথে থেকে তোমার পরীক্ষা নেয়। তাই তিনিই পাশ করিয়ে দেন। আরেক সাহেব বললেন - তুমি একলা এসেছ একলা যাবে কাজ কি তোমার পর সোহাগে! এক জ্ঞ্যানের আকর আবার এক কাঠি উপরে - আল্লাহ ঈশ্বর গড রিলেশান খুজতে ব্যস্ত। সব মিশে এক হয়েছে প্রমান না হলে জগত থেমে যাবে। সভ্যতা ধংস হয়ে যাবে!
ভোরের ব্যলকনিতে দাঁড়িয়ে জামগাছের দিকে তাকায়। ছোট্ট এক নাম না জানা পাখী বসে আছে। কুট কুট করে খুটে খাচ্ছে। হালকা ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে পাতাগুলোর জেল্লা বেড়েছে। ভাল লাগে। মন ভাল হয়। অলীকের ব্যলকনির লাল পাতাবাহার ফিসফিসিয়ে বলে - জামগাছ হতে পারিস না। চুপচাপ থাকবি। স্থির হবি। পশুপাখী আসবে নির্ভয়ে। সময়ে ফল দিবি। বৃষ্টি এসে স্নান করিয়ে যাবে -বাইরে ভেতরে।

অলীক নির্বাক। ছোট্ট পাখীটা এখনো বসে কুট কুট করে চলেছে....

Popular Posts