রূপাই -সাঁজুর প্রেম

আমাদের নানান সময়ে নানান কিছু ভাল লেগেছে ও লাগে, তা সকলের ক্ষেত্রেই সত্যি। ভোর হলেই গুড মর্নিং আকাশ প্রোগ্রামটা খুলে একবার দেখে নেওয়া অভ্যাস হয়ে গেছে। ভাল লাগলে বেশ খানিক সময় পের করে পা বাড়ায় বাকি দিনের প্রস্তুতিতে। এই যেমন সকালে মজেছিল নক্সি কাঁথার আসরে রূপাই-সাজুর প্রেমে।
বেশ এনজয় করছিল। সোনালি-দ্বীপান্বিতা-রুপঙ্কর এই তিন শিল্পীর মিলিত প্রয়াস। বেশ প্রেম-প্রেম মাখমাখ গদগদ ভাব সকালবেলা !
আজকাল কেমন একটা হয়েছে যা সে সকলকে বলে উঠতে পারে না। কিভাবে বোঝাবে প্রেম দেখতে পাওয়া যায়, শুনতে পাওয়া যায, বুঝতে পারা যায় - স্যরি, প্রেম উপলব্ধি করা যায়। সে এসব বলা ছেড়ে দিয়েছে কারন কেইবা আর পাগলের প্রলাপ শুনতে চাইবে। তবুও পাগল দেখতে পায় বুঝতে পারে, ও না-বলা কথা বলার চেষ্টা করে লেখার মাধ্যমে।
সেই কবে একটা লাইন পড়েছিল সঠিক শব্দগুলি মনে নেই শুধু ভাবটুকু মনে আছে তা হলো এই - প্রেম যখন নাভিকুন্ডে তার প্রকাশ শরীরে, প্রেম যখন হৃদয়ে তার প্রকাশ গানে, প্রেম যখন কুটস্থে তার প্রকাশ অক্ষরে। মানেটা তখন বোঝেনি, আজ বুঝি-নাবুঝির কিনারে দাঁড়িয়ে।
নানান সময়ে নানানধরনের মানুষের সংষ্পর্ষে এসেছে যাঁরা তাদের জীবনচর্যার ঘটনাবহুল অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছে তার সাথে। তা শুধু তাকে উন্নত করেনি, এগিয়ে দিয়েছে হাঁটি-হাঁটি পা-পা করে জীবনের জয়গান গাইতে। এই আজ যেমন সকালে মনে হয় প্রেমের ভিন্ন-ভিন্ন স্তর মানুষের গলার টেক্সচার (বাংলা শব্দ জানা নেই) বদলে দেয়। বদলে দেয় ত্বকের টেক্সচার। বদলে যায় হাব-ভাব-আচরণ।
কিভাবে একই গান ভিন্ন-ভিন্ন মানুষের জ্ঞান-অভিজ্ঞতা ভেদে উপলব্ধি বদলে দেয় তা নিতান্তই এক বিষ্ময় !
আধুনিক গবেষণা বলবে মস্তিষ্কের কোষগুলি তাদের পরিচিত ইন্ফরমেশান পেতেই উত্তেজিত হয়ে ওঠে, কিন্তু হৃদয়ের কোষগুলি?
সে তো সবসময়ই ভিন্ন-ভিন্ন উপায় খোঁজে উত্তেজিত হওয়ার নিমিত্তে। ইমোশান নামের এক শব্দের আড়ালে সে শুধুই লুকোচুরি খেলে নিজের নিয়মে, নিজের খেয়ালে, তার প্রেমের খবর কেইবা জানে ! কোনো বাইরের ইন্ফরমেশান থেকে প্রাণের কোন স্তরে কোন সিক্রিশান চালু হবে অথবা সিম্প্যাথেটিক-প্যারাসিম্প্যাথেটিক অ্যাকশান চালু হবে বলা বিশেষ রুপে অসাধ্য তা বোধহয় সকলে স্বীকার করে নেবেন। জেনেটিক মিউটেশান-এর রহস্য বার করা শিবের অসাধ্য !
অর্থে অসংখ্য সহস্র কোটি বছর পেরিয়ে এই প্রজন্মে কোন মিউটেশানের পিছনে কি বা কোন ইনফো কার কোন অন্তপুরে হানা দেবে একথা বলার দুঃসাহস কোনোও সচেতন মানুষই করবে না, শুধু তাই নয় পারবেও না।
এখানেই ঈশ্বর জিতেছেন! আমরা প্রেম-প্রেম করে হেরেছি। সৃষ্টি কি স্রষ্টার থেকে বড় হতে পারে ?
তাই যতই না হোক রুপাই-সাঁজুর প্রেম, যতই না হোক প্রেমের নানান রঙ, যতই না হোক রঙ-বেরং-এর হোলি একদল মস্তিষ্ক দিয়েই চালিত হবে অপর দল হৃদয় দিয়েই চালিত হবে। মস্তিষ্ক দিয়ে রূপাই-সাঁজুর নক্সিকাঁথা কখনই বোনা যাবে না।
আমাদের সকলেরই পিছন ফিরে দেখতে ইচ্ছে করে ভীষণ। জল ফল্গুধারার মত ভিতরে বয়ে চলে অনবরত।  বিচ্ছেদের মাঝে যে প্রাণ সঞ্চার হয় তাই প্রেম, এই যেন সার
- কথাটা কবে কোথায় পেয়েছিল মনে নেই। হয়তবা নিজেরই।
Post a Comment

Popular Posts