কি করে ভুলি তোমায়...


 গাড়ি চালানোর ফাঁকেও প্রেম জাগে একথা অনীক আগে মানতো না, এখন মানে।  অনেক কিছুই পরিবর্তিত রুপে জীবনে আসে যা বলা-না-বলার বৃত্তে রয়ে যায়।  ভাবি বলি, কিন্তু হয় না।  কে জানে কেন?!! 

প্রথম জীবনে প্রেম করেছে অনীক- অবলা প্রেম, না বলা প্রেম, স্কুলের ক্লাসমেট-বান্ধবীদের সাথে কল্পনায়।  মনে মনে মন কলা খাওয়ার স্বভাব তার বহুদিনের।  যাকে আমরা সবাই বলি দিবাস্বপ্ন!  পিছু ফিরে দেখতে ইচ্ছে করে কোথায় তার জীবনের সুন্দরী-রুপসী বিদুষিণীরা।  

ফেসবুকে সার্চ করে অনীক- দেখে কেউবা দিল্লি, কেউবা কলকাতা, কেউবা কেওনঝড়!  অনেক বিদেশীনিও আছেন, অর্থাৎ প্রবাসী! 

রুপসী-বিদুষি মহিলার কেউবা জেনেছিল তার দুর্বলতার কথা, কেউবা বুঝেও বোঝে নি।  শুধু একজনই বলেছিল, " তুই যেখানেই যাস না কেন আমি মনে রাখব।"  এ কথার পিছনের ব্যাখ্যাও রেডি আছে কিন্তু তোলা থাক অন্য সময়ের জন্য।

মনে রাখা কি ভালবাসার অন্য অবস্থা।  আমরা কি সকলেই প্রেমেই আচ্ছন্ন?  প্রেম কি স্নেহ নয়? প্রেমের কি শরীর ছাড়া সম্পর্ক নেই?  থাকলেও অনীকের জানা নেই না।  এখনও সেই মানসিক সন্ন্যাস আসে নি যা তাকে সব কিছু থেকে শারীরিক বোধ থেকে আলাদা করে রাখবে।  দন্দ্ব আসে সত্যিই কি সম্ভব, শরীর ভিন্ন মানসিক প্রেম!!!   

সকালে ওষুধের দোকানের দেখা বাচ্চাটির প্রতি যে মমতা জাগে তা কি প্রেমের প্রকাশ নয়?  বয়সকালে অনীক-এর বোধোদয় হয়।  প্রেম কি বাইরে না ভেতরে দ্বিধা-দন্ধ জাগে।  কাকেই বা এ প্রশ্ন করে!  উত্তরই বা কে দেবে?  

সকলেই ব্যাস্ত।  ছিল একজনই কথা বলার...  

সকালের ঘুম ভাঙার অপেক্ষা।  কি খাব?  কি পরব?  অফিসে কি হবে?  একে কি বলব?  তাকে কি জবাব দেব?  সব কিছুরই উত্তর ছিল তার ভাঁড়ারে।  বিরক্তির চিহ্নমাত্র ছিল না তার কথায়।  শান্ত রুপটি টানতো অনীককে।  এখন নেই!!  আমরাতো সকলে শ্রোতাই খুঁজছি!

শহুরে নিয়মের আবর্তে পড়ে আমাদের জীবন প্রায়ই হাঁসফাঁস করে।  কি করছে ও কি করবে কিছুই ভাবি না।  ভাবা শব্দটাই বেবাক হারিয়ে গেছে আমাদের জীবন শব্দকোষ (অনেকক্ষন চেষ্টা করার পর বাংলা শব্দটি মনে পড়ল)  থেকে।  শুধুই দৌড়চ্ছি....... অজানা পথে.... গাড়ির ই. এম. আই. শেষ হলে বাড়ির... তারপর ছেলের বাইরে পড়তে যাবার..... শেষমেষ ই.এম.আই. ও আমি এই জীবনের পরিহাস।  বৃদ্ধ অনীকের ছবিটা সে আগেই দেখে রেখেছে।  সাকসেস্- ভিকট্রি শব্দগুলোর ডেফিনিশান বদলে গেছে।  এখন তো ভিকট্রিই সাকসেস, না ভুল হয়ে গেল সাকসেসই ভিকট্রি।  অনেকেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস আপডেট করে ঘনঘন " সেন্স অফ অবলিভিয়ন"-এর জাল এড়াতে।  তারই ফাঁকে কোন জালে জড়িয়ে পড়ছে নিজেই জানতে পারে না।

যাইহোক গাড়িতে প্রেম জাগার ঘটনার কথাই বলা যাক.... আজকাল বড়ই অবান্তর লেখার স্বভাব হয়েছে।  তাই মাঝের এই অবান্তর লেখা।

সকালে ছেলে বেরিয়েছে স্কুলে, কাজের লোক এসে রান্না করে গেছে।  অনীক রেডি হয় অফিস বেরোনোর তাগিদে।  ছেলে বেরোনোর আগে বলে " বাই পাপা", রেগুলার রুটিন।

রাস্তায় গাড়ি নিয়ে পা রাখা মাত্র ফোনের মেইল বক্সে ম্যাসেজ আসে।  ইন্ডিয়ান হেল্থ সোশাল সার্ভিসেস!  এন জি ও!!  সেমিনারঃ খাদ্য তালিকার উপকারিতা ক্যান্সার রোধে।  অনীক বোঝে না কোথা থেকে এই মেইলগুলো আসে।  কোথায় পায় মেইল আইডি।  মন পিছু ফিরে।  ফিরে যায় পুরোনো দিনে, ক্ষত-বিক্ষত সময়ের দিনে।  নানান যোগাযোগ ছিল রিনির উপস্থিতিতে, এখন কিছুই বেঁচে নেই।  সেও নেই যোগাযোগও নেই!  ছেলেও বাপকা বেটার মত জীবনযাত্রায় অভ্যস্থ হয়েছে!  দেখে শেখা। 

ক্রিং ক্রিং করে ফোনটা বেজে ওঠে।  কিছু না বুঝেই গাড়ির ব্লু-টুথ স্পিকার অন করে।

" হ্যালো ম্যাম, আর ইউ এ্যাটেনডিং দা সেমিনার?"

জবাব দেয় না অনীক, কেটে দেয় ফোনটা।  রিনির ফোনটা এখনতো সেই ব্যাবহার করে।  খুব কাঁদতে ইচ্ছে করে অনীকের...... 

ইচ্ছে করে ফিরে পেতে সেই সময়কে।  সম্ভব নয়।  সময় সত্য।  প্রেমও সত্য।  তারই মাঝে দাড়িয়ে জীবন পরম সত্য!!!

স্টিয়ারিং-এ হাত ঘোরায়।  টার্ন নেবার মুহুর্তে ব্রেক কষে।  খুব জোর বেঁচে গেছে মেয়েটি।  নীল স্কার্ট ও ক্রিম রঙা টপ-এর অবিকল রিনির ঝলক !!! 

         

      

   

Popular Posts