জাগো কেলোর মা জাগো!

জাগো গোরি, গোরি জাগো ...
বহুল প্রচারিত এই গান অনেকেরই প্রিয়। লেখাটির শুরুতে এই গানটিই মাথায় এসেছিল তাই রাখলাম শুরুতেই।
বেশ লাগছে ভোট-ভোট খেলার প্রচার দেখতে। ধন্য দেশ-কাল-শাসন ও আমরা! বেশ মজাই লাগে বেশ কিছু বহুল প্রচারিত চ্যানেলের বিতর্কের নামে জঙ্গলের ঝগড়া। কখনও কখনও মনে হয় আমরা সকলেই বোধহয় জঙ্গলীরই রুপান্তর। তারই মাঝে শিক্ষার ভড়ং প্রকাশ করে বসি। যিনি বিতর্কের কর্তা তিনিও কি ঠিক?
সে যাই হোক না কেন আমাদের বাক্ স্বাধীনতাই হস্তক্ষেপ আমরা করতে দেব না বললেও প্রতিনিয়ত সংগঠিত স্বাধীনতার ধর্ষণের সাক্ষী আমরা সকলেই। তারই মাঝে শিক্ষিত জনগনের বৈশ্য মনোভাব। অর্থাৎ নিজের দিকে তাকাও। নিজের কথা ভাব।
কখনও মনে হয় নিজের দিকে তাকাও শব্দটার অপপ্রয়োগ হয়েছে। সঠিক অর্থে, নিজেকে বিচার কর অন্যকে নয়। চ্যানেলের চিল চিৎকার শুনে মনে হয় এরা নিজেকে বিচার করাই ছেড়ে দিয়েছে।
এ উল্টাপুরানের দেশে আমরা সবাই রাজা নয়, আমরাই রাজা আমাদের এই রাজত্বে।

এখানে কেউ জমি কেনার আগে সংসদে বিল আনার ব্যাবস্থা করে, কেউবা সরকারি মোনোপলি বিজনেস ব্যাবসায়ীর হাতে তুলে দেয়। কেউ কালো-সাদা করার খেলায় মেতেছে। দেশ-বিদেশ-দেশ, এই হলো সার্কল। কোনোও প্রশ্ন নয়, আমরা রাজা। রাজার কোনোও জবাবদীহি আছে নাকি? দেশ সেবার ধকল সামলাতে রাতব্যাপী মিটিং করতেই হয়, তার কর দেশের মানুষই ভোগ করবে এই তো রীতি!
ফ্রি-তে সেবা হয় নাকি!!! ডিসগাস্টিং!!!
কখনও শিক্ষিত অপরাধী, কখনও বা অশিক্ষিত! শিক্ষিত শালীনতা বজায় রেখে অপরাধ সংগঠিত করে, অশিক্ষিত বলে খেমটা নাচতে গিয়ে ঘোমটা রাখার দরকারটাই বা কি!
এইতো রাস্তায় গতকালই একদল প্রচারে বেরিয়েছে, হাতে তাদেরই সিম্বল। সরু রাস্তা- হাঁটার পথ নেই তারই মাঝে সোসাইটির ধাঁচা বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি, দূর্নীতির সলিল সমাধির প্রতিশ্রুতি, আরও কত কি? ভাল, যদি কেউ সমাজের নিচু স্তরে যেয়ে উন্মাদনা তৈরি করতে পারে, যদি কেউ চেতনা জাগ্রত করতে পারে! খোলা চোখে ভাল ভাবে নিচু স্তরের সমাজ দেখে মনে হয় তারা নিজেরাই ভাল হতে, থাকতে চায় না। ভাল হওয়ার পদ্ধতির মধ্যে ডিসিপ্লিন প্রয়োজন হয়। ডিসিপ্লিন আনার তাগিদে ত্যাগ দরকারি। আমাদের ত্যাগ তো বাধ্যতামূলক, সেচ্ছায় নয়। আমরা ছেলেকে বলি চালাক হতে পারিস না। যেন যত ভালত্ব চালাকির দ্বারা সম্ভব! নিজে টিভি দেখতে দেখতে বলি পড়তে বসগে যাও। এদিকে বিজ্ঞাপনের আদুল-গা'র নারী ব্লেড-এর গুনাগুন বর্ণনা করছে আর ছেলেও অন্য ঘরে ভিডিও গেম, মোবাইল গেম নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে। আর একটু বড় হলে মোবাইলের নেটের অজ্ঞাত সাইটে হানা দেওয়ার পথ সুগম করছে! একেই বলে বিশ্বায়ন!!!
টিভিতে দেখলাম এক মহান নেতার সব বদলে দেওয়ার বদলে লেজ গুটিয়ে পলায়ন। তার পরেও বুক ফুলিয়ে ঘোরা যায়। লজ্জায় মরে যায়!!!
শেষ করছি কেলোর মা'র উপাখ্যান দিয়ে। ভোটের বেশ কিছুদিন আগে থেকেই বেশ উৎসাহ আসে সব বস্তিবাসীর মাঝে। একদিন বেশ ভাল খাবার, টাকা, ও আরোও কত কি জুটবে। এযেন মেলার মহল। সবাই আনন্দে ভরপুর। পার্টির লোক আসবে হাসবে খাওয়াবে! কিন্তু সব বাগড়া দেয় কেলোর বাপ এবার। বস্তিতে কর্তা গোছের। সকলকে বলল এবার কোনোও পার্টি নয় ভোট পড়বে আমাদের পার্টির ছাপে। কেলোর বাপের একি কান্ড। কেন যে ঐ মিনসে কে ভোট দিতে বলল ঠিক নেই। অন্যে তবুও কিছু আমদানির কথা বলেছিল ভোটের দিনে। সব গেল ভোটের দিনের টাকাটাও! ভাবে কেলোর মা টিভি দেখতে দেখতে।
ভেতরে পাখীটা ফিসফিস করে ওঠে - জাগো কেলোর মা জাগো !!
Post a Comment

Popular Posts