08ঃ 02




  
  ট্যাক্সি ধরলাম অফিসের সামনে থেকে।  ক্লান্ত, তাই উঠেই সিটে শরীরটা এলিয়ে দিলাম।  অনেক রাত হয়ে গেল আজ।  হঠাৎ ড্রাইভারের সিটের পিছনে লেখা ট্যাক্সির নম্বরটা চোখে পড়তেই চমকে উঠলাম.. MH 0802 WB 0802!   

গাড়ির নম্বরটাতো বাবার আমলের, অথচ নতুন ঝকঝকে ট্যাক্সিতাও বেঙ্গ্লের গাড়ির নাম্বার MH দিয়ে শুরু ???  ভাল করে চারপাশটা দেখে।  গাড়ির ভেতর আলো নেই, শুধু ব্যাক সিটের ওপর একটা ছোট্ট লাইট জ্ব্লছেভিউয়িংগ্লাসে একটা ছোট্ট জোকার- জিভ অদ্ভুতভাবে বেরিয়ে আছে! পাশবিক।    

- স্যার, এসি অন করে দিই।  যেন মনের কথা পড়তে পারে লোকটা।  

সায় দিয়ে চোখ ফেলি রাস্তার দিকে।  গাড়ি বাঁ-দিকে টার্ন নিয়ে ওপাশের ইউ-টার্ন নিয়ে সোজা হাইওয়ে ধরার তাল।  যে-যার মতলবে রয়েছে, শুধুমুধু দশ-বিশ টাকা বেশির জন্য অন্য কেউ লড়লেও সে ওপাঠ শেখেনি।  

আই-প্যাড-এ মন বসায় পীত, অর্থাৎ পীতবাস।  স্কুলের বন্ধুমহলে বন্ধুরা আদর করে বলত বাঁশ।  বোঝা যায়, না-বলা শব্দটা কি?  সেটা ছড়িয়ে এখন অফিসেও প্রচারিত।  এইতো আজকেই নিতি ডাক পাড়ে বাঁশ, এই বাঁশ।  তাও সুর করে।  পুরো করিডোরটা হাসির ঝলকে ভরে ওঠে।  সেদিনের মেয়ে, এই জয়েন করেছে!  সেও!!!  এখনোও সকলের হাসিটা গিলে খেতে আসে।  জবাব দিতেই হবে ভাবতেই শরীরে একটা ঝাঁকুনি বোধ করে।  

-স্যার আপনার বাড়ি এসে গেছে।

অবাক হয় কথাটা শুনে।  অ্যাড্রেসতো জানার কথা নয়।  আগে কি কখনোও এসেছে??  বিল মেটাতে গিয়ে টের পায় পার্সটি নেই! 

কিছু বলার আগেই জবাব আসে অফিসে ফেলে এসেছেন, পরে দিয়ে দেবেন।  

বিরক্তই হয়।  ভিউইং গ্লাসটি দিয়ে ভাল বোঝা যায় না, আলোআঁধারিতে সাদা দাঁতগুলো অস্বাভাবিক চকমকে।  একটু গলা ঝেড়েই বলে, অপেক্ষা করুন।  ভাড়া নিয়ে যাবেন।  পাশেই এটিএম।
এটিএম-এর ভিতরের ঘড়িটার দিকে নজর পড়তেই নিজের ঘড়ির দিকে তাকায়- স্ট্রেঞ্জ!  আটটা দুই।  তা কি করে সম্ভব!  অফিসে পাঞ্চ আউট করেছে ঐ সময়ে! 

বাইরে আসে নিজের খেয়ালে।  সিকিউরিটির ডাকে হুঁশ ফেরে, " স্যার, এটা  ফেলে এসেছিলেন।"

- কিন্তু ড্রাইভার কোথায়?

সে তো চলে গেছে।

পাল্টা ওকে প্রশ্ন করে- তোমার ঘড়িতে কটা বাজে ?

- কেন স্যার আটটা দুই।  চোখে পড়ে সাদা ঝকঝকে দাঁত, চোখের মনি বেশি রকমেরই সাদা, উজ্জল।

ফ্ল্যাট-এ ঢোকার মুখে অন্ধকার- কোনোওরকমে দরজা খুলতেই ঘড়ির টিকটিক।  ঘড়ির কাঁটায়- আটটা দুই!  নিস্তব্ধ পরিবেশে ছোট্ট শব্দও বড় মনে হয়।  পাশের দরজা খুলে ভেতরে যেতেই অবাক- হসপিটালের মর্গ, একটি মানুষ শুয়ে, দেখতে অবিকল তারই মত।  আশেপাশে বহু লোকের ভিড়।  চারপাশ সাদা ধোঁয়াটে।  নজর পড়ে বাঁদিকে- পুরোটায় লালে লাল, এমনকি ধোঁয়াও।  এগিয়ে যায়।  সিলিং-এ একটি ঝুলন্ত দেহ।  নিচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে লোকজন- চেনা মুখ, জায়গাটাও চেনা। 

নিশব্দে এগোয়- নিজেরই অফিস!  নিতি পেরোচ্ছে, উল্টোদিকে সে।  মনে পড়ে যায় সব।  ভুল হয়ে গেছে।  দৌড়ে দরজা দিয়ে বেরিয়ে আসে।  উপায় নেই।  ট্যাক্সিটা দাড়িয়ে, নম্বর MH 0802 WB 0802!!!  
Post a Comment

Popular Posts