মর্নিং বার্ড

একলা ঘর

জীবরহস্য বড়ই গোলের, কে যে কখন গোল দিয়ে যায় না খেলে জানা যায় না। আর একবার খেলে ভোলা বাবারে স্মরণ ছাড়া গতি থাকেনা। একটা প্রশ্ন জাগত মনে - দরকারে অদরকারে সকলে মন্দিরে যায় কেন। নিজে গিয়ে বুঝলাম জলই জীবন তাই জল ঢেলে জীবন-যাতনার রহস্য থেকে সহজে নিস্তার পাওয়ায় উদ্দেশ্য। অবশ্য বোঝার আরোও অনেক উপায় ছিল ছেলেবেলায় গুলিডাণ্ডা পিট্ট - লাট্টু খেলতে গিয়ে বুঝি ডিফেন্স-এর দাম বেশি। সেই রোগ বুড়ো বয়সেও কাটেনি তাই আর গোল দেওয়া হলোনা, শুধুই গোল বাঁচিয়ে গেলাম। বাবা বললে দেখে, মা বলল খোকা সাবধানে। সেই সাবধানতার যাবর আজীবন কেটে চলেছি, আমি সাধারণ মানুষ। সময় বদলেছে, গরমের ছুটিতে তখন কচি আম। ভরদুপুরে লুকিয়ে খেলা, ধরা পড়লে মা'র ব্ল্যাকমেলিং বাবাকে বলে দেব, আরো বেশি দস্যিপনা করলে, নাহ থাক! ভাবি সময় বদলাচ্ছে, এখন সামার ক্যাম্প আছে, আছে আরও কতকিছু, কিন্ত নাহ ভাই-বোনের ঝগড়া নেই। পাড়া বেড়ানোও নেই। তবে আছে কিছু বলতে যা বাধা নেই - একলা ঘর আছে।


অনন্ত জীবন

ভোরের ময়দান নি:শব্দে কথা বলে। বলে নেচে কুদে আড়ালে-আবডালে মন ভাল করা কথা। নাজানি কজন তার কথা শোনে। সকলে ব্যস্ত হন্টনে নতুবা নাক-কান টেপাটেপিতে। জীবনের গতি নীরবে দূরে সরিয়ে রাখে প্রকৃতির সহজ সরল বহিঃপ্রকাশ থেকে কারন সে সহজিয়া ভাবটিতেই স্থিরত্ব পেয়েছে। একটি পাতা ছোট্ট একটি জংলি ফুল কিংবা ফুরফুরে বাতাসে প্রাণবায়ু লুকোচুরি খেলে। এমনকি মর্নিং বার্ড সবুজের মাঝে ডাক পাড়ে - ওরে তোরা আয়, একটু দাড়া। কিন্তু সময় কই! আমি আপনি সকলেই ছুটছি প্রতিটি শ্বাসে প্রতিটি রক্তকণা সাথে করে আর দূরে সরছি ক্রমাগত অনন্ত জীবন থেকে।


দেখতে নেই। শুনতে নেই।

অনেকদিন পর আজ ভোরের আলোর পথ ধরে পার্কে হাজির। আকাশমনি গাছটা একইভাবে দাড়িয়ে। পাশের দেবদারু বর্ষার প্রতীক্ষায়। পাতাগুলি ভোরের মিষ্টি বাতাসে ইনিয়ে-বিনিয়ে কথা বলে চলেছে নিজেদের মধ্যে। গাছেদেরও আড্ডা জমেছে আজ ! 
স্যার জগদীশ চন্দ্র বোস বলেছিলেন গাছেদের প্রাণ আছে। কিন্তু তার বহিঃপ্রকাশ দেখার ক্ষমতা কি সকলের থাকে। কেউ কি দেখে পাতাদের আনন্দ বা গাছেদের বর্ষার আগমনী গান। আমরা প্রতিনিয়ত শুধুই এগোনোর ইঁদুর দৌড়ে সামিল। 
চোখে পড়ে পার্কে বাচ্চাটা একমনে খেলা করে চলেছে চিন্তা নেই খাবারের স্নানের শোবার। জানে সবই হয়ে যাবে। বাপি-মা আছে । আমাদের বাপি-মা কি ঈশ্বর ! তার থাকা-নাথাকা কি দেখা যায়। সমস্যার শুরু সেখানেই। দেখা যায় না, উপলব্ধি করা যায়। উপলব্ধির স্তরে আসা দরকারি তা কারোও সারা জীবনেও হয়না আবার কারোও শৈশবেই হয়ে যায়। বড় একটা শ্বাস নিয়ে হাঁটা দেয় আবার। 
দম দেওয়া ঘড়ির মতন নিজেকে পার্কের চারপাশে পাক দিতে, থামার উপায় নেই। সবই মেকানিক্যাল। হাতের ব্যান্ড ঘোষণা করবে ক্যালোরি yকতটা ক্ষয় হলো আজ। অবাক লাগে সব দেখে - এক যুবক কানে হেডফোন গুঁজে ডন-বৈঠক দিচ্ছে। একোন সমাজ - শরীরে যন্ত্রের বিষ ধারণ করে শরীরচর্চা ! আরোও কয়েক পা এগোতেই দেখে পাড়ার দিদিভাইকে, শরীরচর্চায় মেতেছেন। তার পাওনা মিষ্টি একটা হাসি। সেই হাসিতে সেতো কোন ছার স্বয়ং ব্রহ্মাও কুপোকাৎ হবেন!
এতো গেল মানুষের কথা, আজকাল সে গাছেদের সাথে কথা বলে। তাদের ভাষা বোঝার চেষ্টা করে। বছরে একবার স্নানের সুযোগ পায় পাতাগুলো। ধূলো মেখে প্রতীক্ষা অনবরত- তুমি আসবে বলে।
আরোও দুপা বাড়াতেই নয়নতারা ফুলের থেকে ডাক আসে - ঃ …
সে দেখেনা, তার দৌড় শুরু হয়েছে। ক্যালোরি খরচের দৌড়।
এইসময় তাকাতে নেই। দেখতে নেই। শুনতে নেই।



ভোরের রকমফের 

ভোরের রকমফের নানান ভাব ও ভাবনা তৈরি হয় মনে। এই ধরা যাক … 
পাশ দিয়ে এক মিষ্টি গন্ধের সুবাস পেরোতেই মনটা উড়ুউড়ু হয়। অবশ্য মনেরই বা দোষ দেয় কিকরে - "সুন্দর সর্বত্র পূজ্যতে" এই মন্ত্র সারাটা জগৎ জুড়ে চলছে।
কি আর করা পাশে পাশে হাঁটা শুরু করে সুগন্ধীর সুবাস নিয়ে। চুলোয় যাক ফুল-গাছ-লতা-পাতা !! 
তবুও কখনো হাঁটতে-হাঁটতে ভাবনা জাগে - একটু আগে তো এভাবে মন দেখেনি তাহলে এখন কেন ?
নিমেষে বাতাসে ভাসে - তুই পুরুষ আর ও নারী । 
সে চুপ থাকে, কাকেই বা জবাব দেবে। 
বেশ কয়েক পাক পেরোনোর পর হুঁস ফেরে - মহিলা নেই, কখন যেন সুগন্ধ অজান্তেই হারিয়ে প্রকৃতির সুগন্ধে মিশে গেছে। ইতিউতি চেয়ে দেখে সুমিষ্ট শরীরি ভঙ্গিমায় উনি পার্কের বেঞ্চ-এ বসেছেন। আলো কতটা বেড়েছে তাতে অবশ্য বুঝতে পারেনি, কারণ প্রকৃতির রুপের ছটা সব আলোকেই ছাপিয়ে যায়। অগত্যা —— একলা চলা।
দ্রুত হাঁটতে শুরু করে। বেশ কিছুটা এগোতেই শরীরে ঘাম দেয়। এনার্জি খরচ হচ্ছে, হরমোনের ক্ষরণ বদলে যাচ্ছে। 
নতুন এনার্জি প্রকৃতি দেওয়া শুরু করেছে। নতুন সুগন্ধী। পাশ দিয়ে একটি বাচ্চা হেঁটে চলেছে। সে পা বাড়ায় বাচ্চার তালে-তালে।

Post a Comment

Popular Posts