ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ


 চৈতন্য অর্থাৎ জ্ঞান, বিপরীত শব্দ অচৈতন্য অর্থাৎ অজ্ঞান।  হঠাৎ প্রশ্নটি উঠে আসে কে বড়মনের মধ্যে এক অদ্ভূত দোলাচল শুরু হয়।  তারই ফল এই লেখা। 

"জ্ঞান" শব্দটি আসতেই আমাদের চারপাশে অনুভূতি আসে বিশালতার যা মানুষকে দেয় অর্ন্তদৃষ্টির।  আমাদের অর্ন্তদৃষ্টির সাতটি স্তর বা সুর রয়েছে।  এই অর্ন্তদৃষ্টির চরম সুরই আমাদের বহির্বুদ্ধি নষ্ট করে দেয়; এনে দেয় "বোধ" বা রিয়ালাইজেশান্।  তাই কথাটি হল " বুদ্ধি যখন বোধে যায়"।  ঋষি অরবিন্দের একটি কথা খুব মনে পড়ে - আই অ্যাম ইন দি ইউনিভার্স অ্যান্ড ইউনিভার্স ইন মি"।  তাই অন্তরদৃষ্টির সমস্ত সুর ছুঁয়ে গেলে বহিরদৃষ্টি অর্থাৎ জাগতিক দেখাটিও সম্পূর্ণ হয়।  পারসিভ অর্থে হাইয়েস্ট ডিগ্রি অফ সিয়িং এক এক স্তরে এক এক রকম।  আমরা জানি হাই ফ্রিকোয়েন্সি ভাসছে।  তাই ওপরের সুরের অধিকারী অনেক তরল বা ট্রান্স্পারেন্ট।  তারই অধিকার আছে সচ্ছতায়।  তাই সে সচ্ছ দেখে ও সচ্ছ দেখায়।  কারন চরম গতিই স্থিতির সমান।

এবার আসি অচৈতন্য বা অজ্ঞান-এ।  অজ্ঞান সপ্ত সুর বা সপ্ত অন্তরদৃষ্টির শুরু।  তার অস্তিত্ব ভাসমান নয় তবে সে কম্পনশীল।  আসলে এক্স্ট্রিমলি লো ফ্রিকোয়েন্সি খুব সুক্ষভাবে অবস্থান করে বলে ধরা যায় না।  কিন্তু সেও একইভাবে গতিশীল।  চরমগতিতে অবস্থান না করলে তা দেখা যায় না।

এবার আসি তফাৎ এ।  অচৈতন্য নিজের অজান্তে অটোম্যাটিক হলেও নিজে জানে না তার রিফ্লেক্সের কথা।  আর চৈতন্য বা জ্ঞান একই স্থানে আসেন স্বজ্ঞানে।  তাই সে জেনে বলে- আমি নই, আমি নই…..তুমি।  আর অচৈতন্য প্রাণের তাগিদে ঘোষণা করে আমি, আমি, আমি।  আসলে চৈতন্যে এসে জীব বুঝে যায় মূলাধার ও সহস্রার একই, এই দুটিই অদ্বৈত বাকি সব দ্বৈত।  সমস্যাটা এদের নয়, যারা আছেন মাঝে তাদের।  কারণ তাদের অবস্থান ভাবমূর্ত্তিতে।  তারা না থাকেন ভাবে, না মূর্ত্তিতে! 

শেষ করি সিনেমার ভাষায়…একটি সিঙ্গ্ল ফ্রেম-এ অসংখ্য লেয়ার থাকতে পারে কিন্তু মূল তিনটি- ফোর গ্রাউন্ড, মিড গ্রাউন্ড ও ব্যাক গ্রাউন্ড।  মিড গ্রাউন্ড নির্ভরশীল ফোর ও ব্যাক গ্রাউন্ডের ওপর।  তাদের ছোট্ট একটু পরিবর্তন করলেই মিড-এর অস্তিত্ব নড়ে যায়।  মানুষের জীবন শুধু নয় এই ফর্মূলা জগৎ-এর সব জীব ও জড়ের ক্ষেত্রে সাবলীলভাবে কাজ করে।  এমনকি সিনেমা, চিত্র, ও যেকোনোও সৃষ্টিশীল মাধ্যমই এই নিয়মের বশবর্তী। তাই এভাবে বলা যেতেই পারেঃ যা একটি মানুষের মিড গ্রাউন্ড তা শব্দ ও দৃশ্যের মিড গ্রাউন্ড।  একইভাবে যা মানুষের ব্যাক গ্রাউন্ড তা শব্দ ও দৃশ্যের মিড গ্রাউন্ড, এবং একইভাবে ঠিক ফোরগ্রাউন্ডের ক্ষেত্রে, অর্থাৎ পরবর্তী প্রজন্ম।

আবার অন্য ধারার লোকের বলেন মিড গ্রাউন্ড তুলে নিলে না আছে ব্যাক না আছে ফোর গ্রাউন্ড।  অর্থাৎ ভাবমূর্ত্তি না থাকলে ভাবই বা কি আর মূর্ত্তিই বা কি?  তাই সময়-সময় মনে হয় দ্বৈত বলে কিছু নেই পুরোটাই অদ্বৈত। 

তাই শেষ করছি এই বলে---

   ওঁ পূর্ণমদঃ  পূর্ণমিদং  পূর্ণাৎ  পূর্ণমুদচ্যতে । । 
   পূর্ণস্য     পূর্ণমাদায়      পূর্ণমেবাবশিষ্যতে । । 
   ওঁ শান্তিঃ  শান্তিঃ শান্তিঃ । ।  

Post a Comment

Popular Posts