আমার হিয়ার মাঝে....

জীবনের নানা গলির মধ্যে দিয়ে পেরোনোর পথে অনেক কিছুই প্রাপ্তি ও বিয়োগ থাকে। প্রাপ্তি দেয় আনন্দ, বিয়োগ আনে ব্যাথা। ব্যাথা আসার কারন দুঃখ। আমরা সবের মধ্যেই বন্ধন খঁুজি ও তার রস থেকে আনন্দ, তৃপ্তি, ব্যাথা ডেকে আনি।
স্পিরিটুয়ালিস্টরা বলবেন ঈশ্বরকে ভালবাসুন, কমিউনিস্টরা বলবেন মানুষের ভাল করাতেই আনন্দ।
আমি বলি আমাদের কথা - "যা কিছু আনন্দ দেয় সব কিছুকেই আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকাই প্রাণের বহিঃপ্রকাশ। সবের মধ্যেই প্রাণের ছোঁয়া দেখা ও প্রকাশ অনুভব করাই জীবনের প্রকৃতি। প্রাণ তার নিজস্ব লয়, তাল, নিয়মেই প্রকাশে ব্যাস্ত। সে তার জানান দেবার জন্যই এজগৎ কে বেছেছে। তাই কাউকে না ভালবেসে শুধু তার বাইরের বিষয়কে বাইরে রেখে সুপ্ত প্রকাশ-কে অনুভব করা ও আনন্দ নেওয়ায় ভালবাসা।"
আমাদের মত ক্ষুদ্র মানুষের কথায় কিই বা আসে যায়!!! একথা অনেকেই বলবেন। আমিও বলি, যখন অহং-এ আঘাত আসে।
আসে আসে মশাই, হামেসাই আসে, কিইবা করা যায় - ছোটো হওয়ার অনেক জ্বালা ।
সুবিধেও বেজায়, চুরি করে অনেক কিছু করা যায়। গোপনে একটা কথা বলি - প্লিজ নিজের সাথে ভাবের ঘরে চুরি করবেন না। কারন নিজেকে নিজে না ঠকানো মানুষ প্রায় হাতে গোনা যায়।
ছেলেমানুষ বয়সে অবাক চোখে দেখতাম আমারই এক বন্ধুর বাবাকে। বোঝার বয়স হয়নি তফাৎটা কোথায় বাকিদের সাথে ! এতটা পথ পেরিয়ে, অনেক বিষ গিলে সারটা জেনেছি এই--- নিজের সাথে নিজের কাছে ভন্ডামো নৈব নৈব চঃ ।
বাকি আর কেউ কোথাও থাকলেও জানার প্রয়োজন নেই। অসীম বিশ্বের নিরিখে নিতান্তই তুচ্ছ আমাদের জীবন। কাজ কি জাহাজের খবর নিয়ে।
শেষ করি এই বলে - ছোট্ট একটি বাচ্চার প্রিয় গান - "জিয়া জিয়া রে" গানটিতে একটি লাইন আছে - "... ম্যায়নে খুদ্সে হি প্যায়ার কিয়া রে ..."
প্রায় বছর কুড়ি আগের কথা মনে পড়ে গেল। লোকাল ট্রেনে যাচ্ছি। তখন ট্রেনে সিগারেট ধরানোর মানা ছিল না। বরাবরের পাকা আমি বিরাট কিছু মাতব্বর ভেবে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে ব্যাস্ত। প্রায় সমবয়সী দুটি ছেলে, আইআইটিয়ান, বলে উঠল - যে নিজেকে ভালবাসে না সে কাউকে ভালবাসতে পারে না। আঁতে লেগেছিল কথাটা।
এতবছর পরে মনে হয় ভালবাসা শব্দটাই তাৎক্ষনিক। সাময়িক। আমরা কেউ কাউকেই ভালবাসিনা। শুধু নিজের খুশির কারনে করা কাজকেই ভালবাসার মোড়কে বেচার চেষ্টা করি।
এখন সিগারেট অতীত হয়েছে জীবন থেকে। ছেড়েছিলাম হঠাৎ। কারন ঠিক নিজেই বুঝিনি কেন। তবে নিজের কারনে এটা নিশ্চিত।
অনেক ছোটো থেকেই কিছু কথা শেখানো হয় - আপনি বাঁচলে জগন্নাথ । কেন যে আমরা বারবার একথা ভুলে যায় !
Post a Comment

Popular Posts