ইন্ভার্স প্রোপোরসান্





  ছোট্টো পিসি    খাচ্ছে শিশি
  কাঠবেড়ালী    করছে হিসি
  কাঠগোলাতে লম্বা লাইন
  পার্ক-স্ট্রী-টে-তে করল ফাইন
  ইচ্ছেগুলো গাছে পাকে
  কেন্দ্রবিন্দু মাকে ডাকে------

ম্যাঁ ---------- ম্যাঁ …..আঃ….আঃ…..আঃ ------ আর একটু গান 


সকাল থেকে ফোনের পর ফোন।  গানটা হিটঅসাধারণ লিরিক।  কম্পোজিশান্-টাও ----- দারুণ
কেন্দ্রবিন্দুর মধ্যমনি শ্রীমাণ চন্দ্রাশিস্, তার তালপাতার চেহারা নিয়ে একগাল দাড়িতে হাত বুলোয় আর করে থ্যাঙ্ক য়ূ….. থ্যাঙ্ক য়ূ। 

উফ্, মাথাটা বনবন করে ঘুরছে।  সেই এক কথা কত আর শোনা যায়।  সব শালা আনন্দর জন্য।  সিডির ইন-লেতে মোবাইল নাম্বারটা দেবার দরকারটা কি ছিল?  বদ বুদ্ধি খেলে যায় একটা।  ট্যাক ট্যাক করে কল ডাইভার্ট-এ গিয়ে আনন্দর নাম্বারটা জুড়ে দেয়।  নে ঠ্যালা সামলা।  বাহারি চুলটা আয়নায় দেখে সো-জ্জা বিছানায়।  ছোট্ট একটা ঘুম ভীষণ প্রোয়োজনীয়।

ঘুম ভাঙে মার ডাকে।  বেলা প্রায় তিনটে।  আনন্দী ফোন করেছেন।  আনন্দর স্ত্রী-- আসল নাম - তমালিকা।  নামের মিল না হলে ঠিক জমে না, তাই বদলে নিয়েছেন।

- চ্যন্দ্রা …….তুই জানিস কতগুলো ফোন এসেছে সকাল থেকে -- প্রায় শ-দেড়েক ইয়াং সুইট গার্ল।
চন্দ্রা তড়াক করে লাফিয়ে বিছানায় বসে।  সবেধন নীলমনি কনীনিকাকে সামাল দিতে অস্থির, তার ওপর এতগুলো।  ফোনটা ফেলে ডাক পাড়ে-- মা….মা……ওমা।
মোবাইল-এ তখনও শোনা যায় আনন্দীর নাকি সুরে-- চ্যন্দ্রা… এই চ্যন্দ্রা।
- কিরে কি হোল?
- ভল্টাকে একবার ডেকে দাও তো।  
ভল্টা, ছেলেবেলার বন্ধু, মানে ঐযে বলে না ন্যাংটো বয়সের।  ওর মাথাটা বেশ শার্প।  একটু বেঁটে-খাটো, গায়ের রঙ গমের দানার মত।  মাথাটা বড়, চোখে গোল চশমা।  থাকে পাশের ফ্ল্যাটেই।
-  তোর সমস্যাটা কি বলবি তো, খাটের ওপর পা ছড়িয়ে বসে ভল্টা, নাম হলে তো ভাল।
- ওরে একটা কনীনিকাতে জান সাবাড় ….. আরোও দেড়শ!
-মানে!
 দরজার দিকে চোখ পড়ে।  একটু ভয় পায়।  নাম নিতেই হাজির ভদ্রমহিলা।  কোলবালিশটা কাছে টেনে আধশোয়া হয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিপাত করেন ভদ্রমহিলার দিকে।  প্যান্টটা ক্রমশ টাইট হচ্ছে, টপটাও ছোটো হয়েছে।  চুলে রং।  কানে একটা বড় দুল।  বুকের কাছটায় আবার বাহারি কাজের নামে একটু বেশি পরিমানেই কাটা।  গলার চেনটাই একটা সুদৃশ পাথর, হাতে কাঠের ব্যান্ড।  চন্দ্রার মনে পড়ে যায় মুভি দেখতে যেতে হবে।  কোলবালিশ ফেলে এগোয় বাথরুমের দিকে

দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবে কলেজ লাইফ-এর কনীনিকার কথা - সহজ, সরল।  একটু নাম হতেই রুপ বদল।  মানস চক্ষে যশ-প্রতিপত্তি কনীনিকার টপ-এর সাইজ হ্রাস-এর ইন্ভার্স প্রোপোরসনটা ভাসে।  শিউরে ওঠার আগেই বাথরুমে স্লিপ করে কুপোকাত্

পরদিন সকালে প্রতিটি নিউজ পেপারে বেরিয়েছে - কেন্দ্রবিন্দু'র চন্দ্রার বাথরুমে পড়ে পায়ে আঘাত, অবশ্য চোট গুরুতর নয়
চন্দ্রা'র বিছানায় বসে পেপারে নজর, কনীনিকা পাশে বসে ফোন রিসিভ করছেন আর মিস্টি সুরে আওড়াচ্ছেন - নাআ ….. উনি এখন রেস্ট নিচ্ছেন।
একবার পাল্টা প্রশ্ন - আপনি কে বলছেন?
- আমি উনার স্ত্রী।
চন্দ্রার চোখ কপালে!  বিয়ের কথা তুললে উত্তর - পরে, এত তাড়ার কি আছে।
দাড়াও দেখাচ্ছি মজা - ভাবে চন্দ্রা।
যেই ভাবা সেই কাজ।  মা … মা …. ও মা।
বিভাদেবী একটু তাড়াতাড়িই আসেন।  বড় আদরের একমাত্র ছেলে।  স্বামী মারা যাবার পর অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে মানুষ করেছেন।
- তোমার পরিচিত রেজিস্টার আছে না?
- রেজিস্টার!
- হ্যাঁ হ্যাঁ, ম্যারেজ রেজিস্টার।  হাতে তিনদিন সময় আছে।  কোনোও প্রোগ্রাম নেই।  এক্ষুনি ডাক।  শুভ কাজটা সেরেই ফেলি।
প্রায় ঘন্টা তিনেক পর।  ম্যারেজ রেজিস্টার, কনীনিকার বাবা-মা, অতিঅবশ্যই ভল্টা ও বিভাদেবী।  সই -সাবুদ শেষ।  সকলে একটু অবাক হলেও খুশি।
- ভল্টা, তুই গ্রুপের সকলকে খবর দে।  আর কনীনিকার উদ্দেশ্যে বলে, আপনি খাবারের ব্যাবস্থাটা করুন।

কনীনিকার ধাতস্থ হতে সময় লাগছিল।  ঘোরটা কিছুতেই কাটছিল না।  নিজের গালেই নিজে চিমটি্ কেটে নেয়।  বিয়ের কত প্ল্যান ছিল - হেরিটেজ্ -এ পার্টি দেবে, এ্যাট্লিস্ট লানডান্-এ হানিমুন!  সব মাটি!  আর কিছুদিন ওয়েট করতে কি অসুবিধে হচ্ছিল।  সবসময় ছোঁক-ছোঁক।  মাঝে-মধ্যে-তো ' কিসি ' দিচ্ছিল।  আর বাক্য বিনিময় না করে পা বাড়ায় ফোনটার দিকে, ডায়াল করে - আমার বাঙলায়।
- সুপ্রভাত।
উফ্, দুপুর বারোটায় সুপ্রভাত!  যাইহোক সুরেলা গলায় বলে, মে আ টক্ টু হোম ডেলিভারি ডিপার্টমেন্ট।
প্যাঁ .। প্যাঁ .। প্যাঁ।  তিনটি শব্দ।  কনীনিকা অর্ডার প্লেস করে, অ্যাড্রেসটাও দেয়।  ওরা বারবার বলছিল - এনিথিং এল্স ম্যাডাম্, এনিথিং এল্স।
বিরক্ত হলেও "নো প্লিজ" বলে ফোনটা রাখে।  এখন ইমেজ তৈরির সময়, কোনোও খারাপ ব্যাবহার নয়।  কনীনিকা ঘুরে তাকায়।  বাইরের দরজাটা খোলা।  ভল্টাদা বেরোল ছোটোখাটো মার্কেটিং সারতে।  কিচেনে পা বাড়ায় কনীনিকা।  চায়ের জল চাপাতে হবে।  ফ্রিজ খুলে দেখে বেশ কয়েকটা ডিম।  সশব্দে বন্ধ করে ফ্রিজের দরজাটা।  চোখ যায় গ্যাসের দিকে।  বাম দিকের র‍্যাকটাতে ছাকনি, প্যান, চামচ সব ঝুলছে।
গ্যাসটা জ্বেলে জল চাপাতে গিয়ে একটু থমকে যায়।  ঠোঁটটা কামড়ে হিষেব কষে মা-বাপি, মাসি, চন্দ্রা….. রেজিস্টার ছজন।  বোতলের প্রায় অর্ধেক জল খালি করে দেয় প্যান-এ।  শাড়ির আঁচলটা ভাল করে কোমরে পাক দিয়ে সেলফ্গুলোর দিকে তাকায়।  ঘাড় নাড়ে কিছু বুঝতে না পেরে।  ডাক পাড়তে যায় - মা----সি, জিভ কাটে, রেজিস্ট্রি হয়ে গেছে।  চুক করে মুখ থেকে আওয়াজ তুলে ভাবে, কখনোওতো আন্টিও বলেছে - তাহলে মাসির - মা, আন্টির - আ।
- মা……আ বলে দৌড় লাগায় কনীনিকা।

ভল্টা চন্দ্রার বিখ্যাত মোবাইল থেকে সব্বাইকে জানিয়ে, একপ্রস্থ বাজার সেরে ফিরল প্রায় দেড়টায়।  রেজিস্টার বিদেয় নিয়েছেন।  বিভাদেবী-কনীনিকার মা বসে গল্প করছেন।  কনীনিকার বাবা সেন্টার টেবিলের ওপর পা তুলে অশিক্ষিতের মত বসে।  নেহাত চন্দ্রার শ্বশুর, নইলে ---

চন্দ্রা'র রুমে ঢুকে দেখে বাবু শুয়ে।  বাথরুম থেকে ভেসে আসছে কনীনিকার বেসুরো গলায় - সেদিন দুজনে …. দুলেছিনু ….।
- কিরে সব গুছিয়ে ফিরলি?
- হ্যাঁ, তিনটে নাগাদ লোক পাঠিয়ে দেবে রুমগুলো ডেকরেট্ করার জন্য।
- গ্রুপে কেউ কিছু বলছিল, গলার স্বরে ব্যাগ্রতা।
- কাউকে কোনোও স্কোপই দিইনি, শুধু বলেছি, বিকেল পাঁচটায় চন্দ্রার বাড়িতে পার্টি।  ও হ্যাঁ ভিরানী সাব্ ফোন করেছিল, জিজ্ঞেস করছিল, এখন শরীর কেমন?  প্রজেক্ট নিয়ে কবে বসবে?  তুই একটা কলব্যাক করে নিস।  আর একটা কথা - ইনটারেসটিং এক গেস্ট আসবে বিকেলে।

খুট-খুট শব্দে চেতনা ফেরে দুজনের।  কনীনিকা বাথরুমে আটকে রয়েছে।  এখন এটা বেডরুম!
দুজনেই বের হয়।  বাইরের ব্যালকনিতে এসে দাড়ায়।  চন্দ্রা এখনোও খুঁড়িয়ে হাঁটছে।  আসলে তেমন কিছু হয়নি।  এসব আনন্দীর কান্ড, নিউজে ইন্ফর্ম করা।  সত্যি মেয়েটা কেন্দ্র-বিন্দু ব্যান্ডটাকে প্রোমোট করছে।  ছোট্ট টুলটা টেনে বসে ভল্টার কাছে একটা সিগারেট চায়।  সিগারেট ধরিয়ে বহুদিনের পুরোনো ধোঁয়ার রিং করার অভ্যাসটা চাগাড় দেয়।  বার কয়েক চেষ্টা করে, হয় না।
ভল্টা হেসে জিজ্ঞেস করে - আচ্ছা বিয়েটা এভাবে করলি কেন বল তো?
- তোর কি মনে হয়, পাল্টা প্রশ্ন ছোঁড়ে চন্দ্রা।
ভল্টা রেলিং-এ ভর দিয়ে বলে - হারানোর ভয় ছিল বোধহয়।  খরচা বাঁচানোর তো চান্স নেই।
চন্দ্রা সিগারেটের ছাইটা ফেলে খানিকটা স্বগক্তিই করে - ওর পরিবর্তনটাই ভয় ধরাচ্ছিল, যদি তাল রাখতে না পারে তাই বেঁধে ফেললাম।

মা'র ডাকে সাড়া দেয় চন্দ্রা।  দুজনে ভেতরে গিয়ে দেখে - বাপ-বেটি খিচুড়ি আর ওমলেট নিয়ে বসে পড়েছেন।  ভল্টা আবার স্নান না করে খাবেন না।  চন্দ্রা ডাইনিং টেবিলের চেয়ার একটা টেনে অপেক্ষা করতে থাকে তার জন্য।  একটু অবাক হয় কনীনিকার ব্যাবহার দেখে - কথাই বলছে না।  রাগ হয়েছে না ঘোর কাটেনি বুঝতে পারছে না।  অবশ্য পিঙ্ক তাঁতের শাড়ি আর স্টেপ্কাট চুলে ফাটাফাটি লাগছে সন্দেহ নেই।  একটু আদর করার ইচ্ছে জাগতেই ডাইনিং টেবিলের তলা দিয়ে পা বাড়ায়।  আপত্তি নেই দেখে পা-টা কোলের ওপর তুলে দেয়।

কনীনিকা একটাও শব্দ খরচা না করে এক চামচ গরম খিচুড়ি পায়ের ওপর ফেলে জানান দেয় - তুমি বুনো ওল হলে আমি বাঘা তেঁতুল।
এক ঝটকায় পা নামিয়ে বসে চন্দ্রা।  বোঝে ওটা রাগ, তবে গরম খিচুড়ির বিনিময়ে।
বিকেলে ডেকরেসান্-এর ছেলেরা এসেছে।  কনীনিকাই দেখভালের দায়িত্বে।  ভল্টা বেরিয়েছে কনীনিকার বাবার সাথে।  চন্দ্রা সিয়োর, ভল্টা মনে-মনে খিস্তি মারছে ওকে।  ও টাঁক মাথার লোক সহ্য করতে পারে না।  একসময় তিষ্ঠোতে দেয়নি ম্যাথস্-এর টিচার কে.বি. মানে কল্যান ভৌমিক-কে।

প্রথম গেষ্ট দিয়া হাজির বিকেল পাঁচ-টায়।  একে-একে এসেছে ব্যান্ডের সকলে।  কনীনিকার গ্রুপের কয়েকজনও হাজির।  এসেছে চন্দ্রার স্কুল-লাইফের কয়েকজন বন্ধু।  মা আবার আশেপাশের ফ্ল্যাটের কয়েকজনকেও 
বলেছেন।  সব মিলিয়ে জনা তিরিশ।  পার্টি ক্রমশ জমছে।  ওদের সকলের প্রিয় বিভামাসী ব্যাস্ত, এদিক-ওদিক ছুটছেন।  কনীনিকা দুজনের চেয়ারের অ্যারেঞ্জমেন্ট্-টা করেছে প্রথা ভেঙে।  দুটো চেয়ার ঠিক 180 ডিগ্রিতে।  কেউ প্রশ্ন করলেই উত্তর - শুভদৃষ্টিটা এভাবেই হচ্ছে।

পায়ে ক্রেপ-ব্যান্ডেজ বেঁধে চেয়ারে বসে চন্দ্রা।  পাশে বসে ঋক।  ঋক একতলার স্নেহাদি' ছেলে।  চন্দ্রার ন্যাওটা।  পারলে বাথরুমেও সাথে যাবে।  চন্দ্রা খুঁটিয়ে দেখছে সকলকে।  আনন্দ সফট্ ড্রিঙ্ক্স হাতে সৌগতর সাথে গভীর আলোচনায় মত্ত।  দুজনে বরাবরই সিরিয়াস।  স্নেহা-আনন্দীর জমেছে ভাল  সাথে যোগ দিয়েছে দিয়া।  এই মেয়েটা খুবই ভাল।  মাঝে ওর কারনে কনীনিকার সাথে সম্পর্কটা প্রায় চটকে যাচ্ছিল।
ঋক হঠাৎ বলে ওঠে - আচ্ছা 'কা, কনীপিসিকে শাড়িতে দারুণ লাগছে বল।
চন্দ্রা এবার ধন্ধেই পড়ে; আমি নাহয় চন্দ্র-কাকা চ'কা হলাম, আমার বৌ কি করে পিসি হয়।  আস্তে করে ঋকের কানের কাছে বলে ওটা আর পিসি নয় চ'কি।
ঋক কিছু বুঝতে না পেরে উঠে যায় কোল্ড ড্রিংকস্ টার্গেট করে।
চন্দ্রা ভাবে ভালোই হোল - " চ'কা-চ'কি", আধুনিক যুগের প্রেমিক-প্রেমিকা।
শ্বশুর মশাইটির দিকে নজর পড়তেই আঁৎকে ওঠে - সৌরীষ-এর সাথে এককোনে সিগারেট ফুঁক্ছেন।  পেট-পাতলা মানুষ, কে জানে কখন মুখ ফস্কে কি না কি বেরিয়ে যায়।  উফ্, এইসময় ভল্টাটাও যে কোথায় গেল।  শেষপর্যন্ত শাশুড়ি কি কারনে ডেকে উদ্ধার করেন সঙ্কট থেকে।  কনীনিকার দিকে তাকিয়ে একটু অবাকই হয় - বহুরুপীর মত সকাল থেকে রুপ পাল্টাচ্ছেন।  এখন আবার সকলের অলক্ষে মিষ্টি হাসি দিলেন।  কে জানে রাতে কি অপেক্ষা করছে!

এত কিছুর মাঝে মিউজিকটা বাজছে খেয়ালই করে নি চন্দ্রা।  হঠাত মাথায় বদ-বুদ্ধিটা খেলে যায়।  আনন্দীকে ডেকে কানে-কানে বলে।  জানে এসব চালু করতে হলে আনন্দীই ফিটেস্ট, অসাধারণ অর্গানাইজ করার ক্ষমতা।  ঘড়ি ধরে পাঁচ মিনিট।  আনন্দীই সব অ্যারেঞ্জ করে ফেলেছে।  ওদের ব্যান্ড-এর গ্রুপের প্রাক্টিসটাকেই কম্পিটিশান্ বানিয়েছে।  মিউজিক চলবে, তালে-তালে নাচতে হবে।  মিউজিক থামলেই আর স্টেপ ফেলা যাবে না।  ফেললেই আউট।

ছোটো জায়গায় চারটে গ্রুপ-এ ভাগ হোল প্রথমে।  পায়ে ব্যাথা তাই চন্দ্রা জাজ্।  এমনকি বিভামাসিও ছাড় পায়নি।  চন্দ্রা মুখ টিপে হাসছে।  হিসেবটা জানা আছে - প্রথম রাউন্ডে আউট হবে প্রায় ফিফটি পারসেন্ট, কারন বেশিরভাগ মানুষেরই শরীর ও মন একই তালে চলে না।  চার রাউন্ডের শেষে সকলকে অবাক করে টিকে রয়েছেন বিভামাসি।  সব মিলিয়ে আট জন।  আনন্দ-আনন্দী থাকবে জানা কথা।  রয়েছে দিয়া ওর কথাকলির স্কিলকে কাজে লাগিয়ে।  কিন্তু ষাঠোর্দ্ধ শ্বশুর মশাই টিকে থাকবেন আশা করে নি চন্দ্রা।  বাকি চারজন চন্দ্রার নাচের গ্রুপের।  চন্দ্রা নোটিশ করে এই মুহূর্তে পুরো সাপোর্টটা শ্বশুর মশাইএর দিকে।  ভাল লাগে - বিখ্যাত গায়কের নাচিয়ে শ্বশুর!
কানে তালা ধরা প্যাঁ-পোঁ শব্দে সুরটা কেটে যায়।  চন্দ্রা মিউজিকটা অফ্ফ করতেই তিনজন এক-পা তুলে স্ট্যাচু।  আনন্দী-দিয়া-শ্বশুর মশাই!  সকলের দৃষ্টি দরজার বাইরে।  শুরু হয়েছে ধাং-কুড়াকুড় তাক্-কুড়াকুড়।  একটি ব্যাঞ্জো, একটি বড় ড্রাম ও একটি ছোটো - মোট তিনজন।  মাথায় লাল ফেট্টি, গায়ে সাদা-লাল জরির কাজ করা ড্রেস।  ভল্টার বদমাইসি।  একমাত্র ভল্টাই জানত ওর সুপ্ত ইচ্ছে - কলেজ স্ট্রীট-এর ব্যান্ড পার্টি একবার হলেও বাজিয়ে যাবে ওর বিয়েতে।  সত্যি পুরো পরিবেশটাই মুহূর্তে বদলে দিল।
ন-টা নাগাদ ভিরানী সাব্ হাজির।  আমার বাংলা পরিবেশন শুরু করেছে।  পাশের গেস্ট-রুমটা ফাঁকা করে মাটিতে বসার ব্যাবস্থা।  কলাপাতায় - আলুপোস্ত, কলাইডাল, পোস্তর বড়া, চিংড়ি মাছ আর ' আমার বাংলা'  স্পেশাল কুলফি্।  শুধু ভিরানী সাব্-এর জন্য একটু চিন্তিত ছিল।  দেখল, উনিই সবচেয়ে ফিট, ভারী শরীর নিয়েও।

একে-একে সকলে চলে গেছে।  মা-কনীনিকা যে-যার রুমে।  ভল্টা ও চন্দ্রা সিঁড়ির কাছটায় দাড়িয়ে সিগারেট টানছে।  মনটা এতকিছুর পরেও খুঁতখুঁত করছে।  ভল্টাকে জিজ্ঞেস করতে গিয়েও থেমে যায়।  আসলে ঠিক কিভাবে রাত্তিরটা শুরু হবে ভেবেই একটু টেনস্ড।  কিছু না বলেই বাইরের দরজাটা বন্ধ করে বেড-রুমের দিকে এগোয়।

মাঝরাতে ঘুমটা হঠাৎ ভেঙে গেল চন্দ্রার।  চোখ পড়ে কনীনিকা খাটের একপ্রান্তে, চাদরটা বিচ্ছিন্নভাবে লেপ্টে আছে শরীরে।  নিজের গাল, হাত, মুখ, চোখ ভাল করে হাত বুলিয়ে দেখে - যাহ্ঃ শালা্, বিয়েটা সত্যিই তাহলে হয়েছে। 
নতুন একটা গানের লাইন ভেসে আসে মনে।  লাফ দিয়ে উঠে লিখতে গিয়ে নজর পড়ে নিজের দিকে।  লজ্জা পেয়ে যায়।  একবার কনীনিকার দিকে তাকায় - নিশ্চিত হয় রোববারের শো নিশ্চিত সুপার হিট, ট্পটা ছোট হতে-হতে ভ্যানিশ হয়ে গেছে।     





Popular Posts