বিজ্ঞান, বিবেক ও চৈতন্য

গত কয়েকদিন ধরে অলীক নানান ভাবে জড়িয়ে আছে নানান ঘটনার সাথে, কোনটা ছেড়ে কোনটা বলে ঠিক বুঝে উঠতে পারে না।  তার কোনোও শেয়ার করার সাথীও নেই যে মুখ ফুটে কিছু বলে, তাই শুধুই লেখার চেষ্টা। সেই লেখারই কিছু অংশ তার মনের ইঙ্গিত দিয়ে যায়। এই যেমন ধরা যাক নিচের লেখা কয়েকটি লাইন ...।

Science:  Knowledge of External Facts, which leads us to gather external reality through mind, intellect, and senses.  It is a gathered knowledge to get into the world of inner reality or truth.

Conscience:  Concentric Awareness of Within.  It is just beyond Science, and acts when all our mind and intellect with the help of senses dip within to gather Truth.

Consciousness:  Constant Awareness of Light and Dark; Light means Visible and Dark symbolises Invisible.  In this state you are Aware of Truth hidden in All Visible and Invisible states.

ইংরেজিতে কতকগুলি শব্দের মালা যোগ করার চেষ্টা করে অলীক, একান্তই তার নিজস্ব, কারোও মতের অমিল হতেই পারে।  বেশ কিছুদিন ধরেই এই তিনটি বিষয় অলীককে আকর্ষণ করে চলেছে ক্রমাগত। কারণ সেই রিয়্যালিটি। কে বড় এই তর্কে-বিতর্কে না গিয়ে একথা অনায়াসে বলে ফেলা যায় অধিত বিদ্যার থেকে অনধিত বিদ্যা সকল সময় সকল ক্ষেত্রেই বড়। অধিত বিদ্যা অর্থে যা কিছু আমরা বাইরের জগৎ থেকে শিখছি, অনধিত অর্থে যা কিছু ধারন করেই এসেছি। আমরা সকলেই সত্যকে জ্ঞানত বা অজ্ঞানত খুঁজে বেড়াচ্ছি, তা সে যেভাবেই হোক না কেন।

বিজ্ঞান থেকে বিবেকে যাবার পথটি মোটেই মসৃণ নয় একথা অলীক বোঝে।  এটাও বোঝে জন্মগতভাবে আমরা বাইরে আসার মুহূর্তে ইন্দ্রিয়গুলি বর্হিমুখি হয়ে পড়ে, এবং কোনোও এক অজ্ঞাত কারনে বর্হিমুখিনতার বাইরে আসার চেষ্টায় বিবেকের জাগরণ ঘটে। বিবেক অভ্যন্তরের বিষয়।  বাইরের জগতের সাথে তার দূর-বহুদূর সম্পর্ক নেই।  বিবেকহীন বিজ্ঞান কি দিতে পারে তাও আমরা যেমন দেখেছি আবার জাগ্রত বিবেক কোন সুদূর প্রসারী প্রভাব রাখতে পারে তাও আমরা দেখেছি।  সমাজে দুধরনের উদাহরণ ভুরি-ভুরি।  বিবেক ও বস্তুবাদ কখনই পরস্পরের শত্রু নয় এবং শত্রুতা থাকবেই তার কোনোও মানেও নেই। শুধু একথা বলা যেতেই পারে বস্তুবাদ চিত্তের নির্মলতা উদারতা প্রসারতা ঘটাতে সাহায্য করে না যদিও বিবেকহীন বিজ্ঞান সেই বস্তুবাদের দিকেই ঠেলে দেয়। 

কনজিউমারিজিম-এর যুগে প্রয়োজনভিত্তিক চাহিদার কথা বোধহয় প্রাগ-ঐতিহাসিক!! চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ভোগ্যপন্যের বিজ্ঞাপন আর কিছু না করুক মনকে বিবেকহীন নিশ্চয় করে।  মুখে দামি সিগারেটের ধোঁয়া উড়িয়ে সমাজসংস্কারের কথা বলা মানুষের সংখ্যাও আজকের যুগে কম নয়।  ধন্য সেই পথের পথিকেরা!!!  ধন্য সেই গুরুবাদী মানুষেরা যাঁরা বলেন কনজিউমারিজিম-এর কোনোও দোষ নেই।  সত্যিইতো দোষ কেন হবে, নারী তো পুরুষের দ্বারা কনজিউম করারই জন্য তৈরি!!!  সেই তো চরম সত্য।  বাচ্চাতো বাড়ির বিছানা ছেড়ে গাড়িতেই ঘুমোবে, পরে গাড়িতেই বাকি কিছু করার প্রেরণা পাবে!!!

এত ক্ষোভ উগরে দেবার পরেও অলীকের কি যেন হারনোর বোধ তৈরি হয়েছে। মাঝে মাঝে অনুভব করে চৈতন্যটা বোধহয় হারিয়ে ফেলেছে।  হারাবেই না বা কেন?  সামাজিক ভোগবাদের ঠেলায় আলো-আঁধারের তফাৎবোধটাই ঘুমিয়ে পড়ে। তাই অলীক পথে-ঘাটে কথার ফাঁকে যাচাই করে তার নিজের চৈতন্যের প্রদীপটা জ্বলছে তো??? সত্যের প্রদীপটা জ্বলছে তো? বিজ্ঞান পেরিয়ে বিবেক, তাও পেরিয়ে চৈতন্যে তরী ভিড়েছে কি?
   

Popular Posts