জন্ম-জন্মান্তর

দেবার্চনা ভট্টাচার্য্য
শূণ্য হাতে এসেছিলেম, শূণ্য হাতে যাব ফিরে
রেখে যাব স্মৃতির ছোঁয়া, বক্ষ ভরা অশ্রু নীরে
ধরায় যেদিন এসেছিলেম, শিশুর বেশে মায়ের কোলে
বেঁধেছিল নতুন নামে, নতুন যারা আপন বলে
সকল ভুলে ছিলেম আমি, ছিলেম আমি গভীর সুখে
শুয়ে যখন মায়ের কোলে, ঘুমিয়ে ছিলেম মায়ের বুকে
চক্ষে ছিল ঘুম জড়ানো, শান্তি ছিল বক্ষ জুড়ে
স্বপ্ন ছিল চোখের পাতায়, ঘুমিয়ে ছিলেম ঘুমের ঘোরে
খেলেছিলেম পুতুল খেলা, বেঁধেছিলেম খেলার সে ঘর
সেজেছিলেম রকম সাজে, বুঝিনি তাই আপন কে পর
ভেবেছিলাম সবই আমার, আমার বলে বেঁধেছিলেম
খেলার ছলে হারিয়ে থাকা, খেলার পুতুল সেজেছিলেম
জড়িয়ে দেহ মোহজালে, মায়ার শেকল পরে হাতে
সংসারের এই বেড়াজালে, মেতেছিলাম দিনেরাতে
মেনেছিলেম এইটে আসল, বাকি কিছুই আসল তো নয়
ভেবেছিলেম খেলায় মেতে, এমন করেই কাটবে সময়
রাত দিনের এই খেলায় মেতে, ছিলেম যখন সকল ভুলে
কখন যেন জীবন তরী, ঠেকল গিয়ে শেষের তীরে
মরণ শেষে দু-হাত মেলে, বললো এসে দাঁড়িয়ে দ্বারে
ডাক এসেছে ওপার হতে, ফিরতে হবে সুদূর পারে
আজ সে সময় ফুরালোরে, সাঙ্গ হোল শিশুর খেলা
মায়ার বাঁধন ছিন্ন করে, শেষ সে বিদায় নেবার পালা
সঙ্গে কেহ থাকবে না মোর, থাকবে না সেই স্নিগ্ধ আঁচল
ডাকবে না কেউ আপন বলে, থাকবে না সেই মায়ের দুকোল
ডাকবে না কেউ পিছন হতে, বাঁধবে না কেউ বাহুডোরে
এসেছিলেম শূণ্য হাতে, শূণ্য হাতেই যাব ফিরে
এই ধরায় যে মোর নেইকো রে ঠাঁই, যেতে হবে সেই সে পারে
হয়ত সেথায় আছে কেহ, কোল বিছিয়ে নতূন করে
নতূন নামে ডাকবে মোরে, বাঁধবে নতূন বাহুডোরে
নতূন করে স্বপ্ন নিয়ে, ঘুমোব মার বুকের পরে
স্বপ্ন নিয়ে চোখের পাতায়, খেলব নতূন পুতুল খেলা
হেঁসে খেলে সময় এলে, ভাসিয়ে দেব পঙ্খিভেলা
মরণ স্রোতে ভাসিয়ে তরী, ঠাঁই পাব সেই নতূন তীরে
ঘুচিয়ে আঁধার ভোরের আলোয়, জন্ম নেব নতূন করে
শূণ্য হাতে এসেছিলেম, শূণ্য হাতে যাব ফিরে
রেখে যাব স্মৃতির ছোঁয়া, বক্ষ ভরা অশ্রু নীরে।


Popular Posts