আরোও একটি দিন

তিনতলার ছাদের চিলেকোঠার পাশে দাড়িয়ে মোড়ের মাথার মানুষজ়ন দ্যাখে সুতনুকা। দূর থেকে বেশ ছোটো ছোটো লাগে। আসলে এ বাড়িতে সকলেরই কাজ় আছে। স্বামী যায় ব্যাঙ্ক-এ। শাশুড়ির স্কুল। আর শ্বশুর মশাইতো নামকরা ডাক্তার, তার তো কোনও সময়েরই ঠিক নেই। আজ এই চেম্বার তো কাল ঐ নাসিংহোম। শ্বশুর-শাশুড়ি ছেলের বিয়েটা তাড়াতাড়ি দিয়েছিলেন কারণ বাড়ি দেখার লোক দরকার ছিল। সুতনুকার বাবা-মাও ভাল বাড়ি, ভাল পাত্র দেখে আর দ্বিতীয় কথা চিন্তা করেননি। গ্র্যাজুয়েশান-এর পরেই বিয়ে। অথচ সুতনুকা পড়াশোনায় ভালই ছিল। ইচ্ছে ছিল মাস্টার্স-টা করে চাকরি করবে। এখন অবশ্য সব কিছুই ওলোট-পালোট হয়ে গেছে। কাজের লোক, টিভি, ম্যাগাজিন এসব দেখে কত আর সময় কাটে। তাই ছাদের ওপর দাড়িয়ে লোক দেখা।
মোড়ের মুখটায় একটা বাস থামল। দরজাটা খুলতেই পিলপিল করে লোক নামে। সুতনুকার মনে হয় মুরগির খোপ থেকে মুরগিগুলোকে ছেড়ে দিলে যেমন হয় তেমনি। হঠা চোখে পড়ে একটা লোক নেমেই দৌড় দিল, পিছনে ছুটছে বেশ কয়েকজন। সুতনুকা কারনটা ভালভাবে বোঝার চেষ্টা করতে প্রায় ছাদের কার্নিস ঘেঁষে দাঁড়ায়। চোখে পড়ে কাজের বউ আসছে। তার মানে চারটে বাজল।
দরজাটা খুলতেই শুরু হলো নানা কথা। আজ কি দিয়ে ভাত খেয়েছে। ছেলেটা স্কুলে মারপিট করে এসেছে। একদম পড়াশুনায় মন নেই। শেষ হয় সেই এক কথায়, “বৌদিমনি দাদাবাবুকে বল না মনা’র বাপের জন্য একটা রিক্স করে দিতে”।
পাল্টা জবাব দেয় সুতনুকা, “কেন তুমি ডাক্তারবাবুকে বল না। তাহলেতো সব হয়ে যায়”।
এবার হেসে বলে মনার মা, “ডাক্তারবাবুকে অন্যকথা বলব ভেবেছি। মনার আমার দশ-কেলাশ হয়ে গেলে ডেরাইভিং শিখিয়ে দিয়ে একটা চাকরি করে দিতে”।
বোঝো এবার সব প্ল্যান করে রেখেছে। কাকে কি বলবে, কখন বলবে। মনে মনে প্রশংসায় করে। এবার একটু গম্ভীর হয়ে বলে, “আচ্ছা বলে দেখব কি বলে। এখনতো কাজগুলো সেরে নাও”।
মনা’র মা এবাড়ির বহু পুরোনো কাজের লোক। দীপঙ্কর মানে সুতনুকার হ্যাসবান্ডকে দেখেছে অনেক ছোটো থেকে। তাই ওকে বলতে বাধো বাধো লাগে। সব আলাপ হয় বৌদিমনি, নয় বড়দিমনি। এই বৌদিমনি ডাকটা শিখিয়েছে ওর শাশুড়িই। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দ্যাখে চারটে হয়েছে। মনা’র-মা রান্নাঘরের দিকে এগোও। আর সুতনুকা যায় টিভির সুইচটা অন করতে। রিমোটটা দিয়ে চ্যানেলটা পাল্টাতে পাল্টাতে এসে দাঁড়ায় কার্টুন চ্যানেল-এ। এই বয়সেও কার্টুন দেখার নেশাটা কাটেনি। ওর শাশুড়ি হেসে বলে- আমাদের বৌটি একদম ছোটো বাচ্ছা। এখনও কার্টুন দেখা ছাড়েনি।
কি মনে হতে চ্যানেলটা চেঞ্জ করে। একটা চ্যানেল-এ রান্না করা শেখাচ্ছে। সুতনুকা এবার চেয়ারটায় বসে মন দিয়ে দেখতে থাকে। সয়াবিনের প্রিপারেশান। দেখেতো ভালই বোধ হচ্ছে। ভাবে আজকেই একবার ট্রাই করবে। বাড়িতে-তো সয়াবিন, ডিম সবই আছে।
“বৌদিমনিগো, কড়াইটা নামাওনি”, ডাকে হুঁস ফেরে।
“না থাক। ওটা মাজতে লাগবে না”।
“হ্যাঁ গো, ওটা আবার কি কতা হোলো? মাজতে লাগবেনা নয়, বল মাজতে হবে  না”।
এবার একটু রাগ করেই বলতে যায় তুমি তোমার কাজ কর গিয়ে, বলতে পারে না। সত্যি কথা বলতে কি কড়া কথা বলার অভ্যাসটাই নেই। তাইতো শ্বশুরমশাই মাঝেমধ্যে বলেন, “ওর নাম সুতনুকা না রেখে মধুমিতা রাখা উচিত ছিল। গলার পর্দা উচুতেই ওঠে না”।
শ্বশুরমশাই আবার খুব খাদ্য রসিক। সারা দিনে বলতে গেলে একবারই মাত্র খান, সেটা বেশ রসিয়ে। ডেলি তার মাছ বা মাংসের কোনও একটা প্রিপারেশান না হলে চলে না। বিয়ে করে সুতনুকা এবাড়িতে আসার পরে যত্নটা একটু বেশিই হচ্ছে। এ বাড়ির এই এক আশ্চর্য নিয়ম, রাতে সকলে একসাথে বসে খাবে। আসলে দিনের বেলা খাবার সময়টার ঠিক না থাকাতেই এই নিয়ম। সুতনুকা ভেবে অবাক হয়, এ বাড়িতে রান্নার লোক কোনওদিন রাখা হয় নি। পুরোটাই শাশুড়ি সামাল দিতেন। রান্না সেরে, খাবার বেড়ে, স্কুল করে আবার রান্নাঘর! কি করে যে করতেন ভগবান জানেন।
মনার মা-এর মাঝখানে কথার ফোড়নে-এ রান্না করার চিন্তা হারিয়ে যায়। মাথাটা গরম হয়ে গেছে। আবার টিভি দেখায় মন দেয় সুতনুকা।
ঠিক পাঁচটায় শাশুড়ি এলেন স্কুল থেকে। ফিরেছেন একটা খাবার প্যাকেট হাতে। ঢুকেই প্রথম কথা, “কিরে তোরা কিছুই খবর পাস নি?
-না তো, কেন?
-আরে একটা পকেটমার ধরেছে মোড়ের লোকজন। আমি খানিক দাঁড়িয়ে দেখলাম। বেশি বয়স নয়, ত্রিশ-একত্রিশ হবে। বেঁধে রেখেছে।
-হ্যাঁ, মনার মা আসার আগে ছাদে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম। লোকগুলো বাস থেকে নেমে দৌড় লাগালো। ওটা যে পকেটমার হবে ভাবিনি।
ইতিমধ্যে মনার মা হাজির। শুরু হয় প্রশ্নের পর প্রশ্ন, লোকটা কেমন দেখতে বড়দিমনি? কোথায় থাকে?
-আমি কি ওর হাড়ির খবর নিতে গেছি। দেখলাম তাই বললাম। ছাড় ওসব কথা।
-বড়দিমনি আমি একবার দেখে আসি, বলে মনার-মা।
-যা দেখে আয়, বলে শাশুড়ি যায় নিজের ঘরে আর সুতনুকা চা-এর জল চাপাতে।
ডাইনিং টেবিলের ওপর রাখা প্যাকেটটা দেখে সুতনুকা একটু জোরেই বলে, “মা প্যাকেটটায় কি আছে”?
-খাবার। আঁশ তাই টেবিলে রাখলাম।
-কে দিল?
-অফিসে ফেয়ারওয়েল ছিল, তারই। আমি আর ওখানে খুলিনি। ডিমের ডেভিল রয়েছে। তুই খেয়ে নিস। বাকিটা সন্ধেবেলা দীপু এলে দিস।
সুতনুকা চা-টা সবে জলে দিয়েছে, আবার শুনতে পায়, “হ্যাঁরে তোর ডাক্তার-বাপি দুপুরে খেয়েছে”?
-না।
-কেন?
-কি একটা অপারেশান্‌-এ খুব ব্যাস্ত, তাই নার্সিংহোম-এ লাঞ্চ করে নেবে বলেছিল।
-ওর আবার লাঞ্চ, সেইতো সকালে স্যান্ডউইচ দুটো মুখে পুরেছে। দ্যাখ এবার রাত্রে এসে কি খেতে চায়।
সুতনুকা এবার প্যাকেটটা খোলে। মনে মনে ঠিক করে মনা’র মা-এর জন্য প্যাকেটটা দিয়ে দেবে। বেচারিরা এসব খাবার খেতে পায় না। ভাল করে প্যাকেটটা দেখে। প্যাকেটটার মধ্যে ডিমের ডেভিল ছাড়াও দু-রকমের মিষ্টি, পেষ্ট্রি রয়েছে। সুতনুকা আবার প্যাকেটটা গার্ডার দিয়ে আটকে রাখে।
অফিসের শাড়ি ছেড়ে রান্নাঘরের দিকে পা বাড়িয়ে প্রশ্ন করেন- হ্যাঁরে চা হলো?
-দিচ্ছি মা। হয়ে গেছে।
সোফায় পা ছড়িয়ে বসে বলেন- আজ মনটা একটু খারাপ হয়ে গেছে। এতদিনের পুরোনো সাথী অতসীদি রিটায়ার করল। আমারও সময় হয়ে এল আর এক বছর। সেই কবে দুজনে প্রায় একসাথে জয়েন করেছিলাম। কত স্মৃতি ঘিরে রয়েছে। আনন্দ, ব্যাথা, বেদনা। ওর ছেলেটা বাইরে থাকে। এখানে স্বামী-স্ত্রী একটা ছোটো বাড়ি করে রয়েছে। বলছিল বিক্রি করে ছেলের কাছে চলে যাবে। শেষটায় সবারই প্রায় চোখে জল চলে এসেছিল।
এই সব কথার ফাঁকে মনা’র মা এসে উপস্থিত। শুরু হয়েছে এক্সপার্ট কমেন্ট্রি। একতরফা।
-জানো তো সকলে মিলে কি মার মারছিল। একজন তো এমন মার মারল যে নাক ফেটে রক্তই বেরোতে শুরু করল। শেষে পুলিশ এল তাই রক্কে, নইলে মেরেই ফেলত।
-তাই নাকি।
-হ্যাঁ গো বড়দিমনি।
-অনেক হয়েছে। তুমি এবার কাজটা শেষ কর। বেলা তো পড়ে এল।
-যাই গো যাই। একটু কতা বললি তাই এত কতা। আমি তো শুধু কাজই করি তোমাদের বাড়িতে। তাইতো তোমরা বল তুই তো এবাড়িরই লোক।
বড়দিমনি এবার আদরের ভঙ্গিতে বলেন- আচ্ছা বল। আমি শুনছি। তা তুইও চা খেতে খেতে গল্প কর।
মনা’র মা এবার লজ্জ্বা পেয়ে যায়। আর না দাঁড়িয়ে দৌড় লাগায় কাজ করার জন্য।
সুতনুকা চা এনে ধরাতেই শুরু হয় এবার শাশুড়ি-বৌমার কথা।
-হ্যাঁ গো, সেদিন সেজমাসির বাড়ি গেছিলে, কি বলছিল?
-ও কিছু না। আবুদা ট্রান্সফার নিয়ে বাইরে যাচ্ছে। সংসারটা এবার ছোটকার ঘাড়েই পড়ল। এই সব আর কি।
-তুমি কবে ও বাড়ি যাচ্ছ?
-দেখি ও কবে ছুটি পায়। এবার ভাবছি দু-একদিন থাকব। তোমাদের অসুবিধে হবে না তো?
-আমাদের আবার কি অসুবিধে? দুজনের রান্না। তাছাড়া ও তো প্রায়ই একবেলা খায়ই না।
-তাও।
-যাও যাও। বাবা-মা’কে দেখে এস। আমি তো এমন একজনকে বিয়ে করেছিলাম যে সংসারটাই ঠিক করে করল না। শুধু প্রয়োজনের কথা বল। সময় চাইবে না। পেশেন্টই ভগবান।
-ওরকম কেন বলছ? ডাক্তার-বাপির কত সুনাম বল তো।
-হ্যাঁ ওটাই ওকে ব্যাস্ত রাখল। বয়স যখন কম ছিল ভাবতাম ঘুরতে যাব বয়সকালে। এখন তো ওকে দেখে মনে হয় যত বয়স বাড়ছে, কাজও বাড়ছে। কবে যে ছুটি মিলবে!
-জোর করতে পার না। এত যে কনফারেন্স এটেন্ড করে। তুমিও তো জিদ করলে পার। দাঁড়াও আজ রাত্রেই ধরব।
-কাকে?
-কেন? ডাক্তার-বাপিকে। এইতো সেদিন কানপুর যাবে বলছিল।
দুজনে কথা বলতে এত মগ্ন ছিল যে কখন মনা’র মা কাজ সেরে চলে গেছে খেয়ালই করে নি। নিচের কোলাপসিব্‌ল গেট-টা অবশ্য টেনে গেছে। ওদের একটা সুবিধে এই পাড়ায় চুরির কোনোও চিহ্ন নেই।
সাত-পাঁচ কথায় বেলা গড়িয়ে কখন সন্ধে হয়ে গেছে। দীপু অফিস থেকে ফিরতেই শুরু হয় ব্যাস্ততা। আবার এক প্রস্থ চা বসাতে হবে। বাথরুমে জামা-কাপড় রাখতে হবে। ওর বরটি আবার কথা কম বলে। এই নিয়ে কম কথা শুনতে হয় না আত্মীয় বাড়িতে। আসলে সকলে জানে না দীপুর মাথায় সারাক্ষন দাবার চাল ঘুরতে থাকে। আগে সঙ্গী ছিল মা। এখন হয়েছে তিনজন। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলে। আর বাপি উপস্থিত হলে তো কথায় নেই, পুরো পরিবারটা হয়ে ওঠে দাবা পরিবার। আজ অবশ্য দুজনে বেরোবে ভেবেছিল। কিন্তু মাথায় সয়াবিনের প্রিপারেশান্‌টা ঘুরছে। লুচির সাথে জমবে ভাল। কাজেই বাইরের প্রোগ্রাম ক্যানসেল।
সুতনুকা গেল রান্নাঘরে চা চাপাতে। মা বসে টিভি দেখছে। দীপু বাথরুমে। রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে হঠা চোখে পড়ে যায় টেবিলের ওপর রাখা প্যাকেটটার দিকে। ঈশ্‌ বেচারি কত আনন্দ করে নিয়ে যেত। যাক্‌ এখন দীপুর জলখাবার হিসেবেই প্লেটটা সাজায়।
মা দেখে বলে, “অতগুলো মিষ্টি ওকে দিচ্ছিস্‌ কেন? তুই খা”।
-না মা, তুমি খেলে খাও, আমার ইচ্ছে করছে না।
-কেন রে, শরীর খারাপ নাকি?
শাশুড়ি এবার উঠে আসে। গায়ে হাত দেয়।
সুতনুকা বলে, “না মা জ্বর-টর নেই। এমনিই”।
দীপু বাথরুম থেকে বেরিয়েই সোজা ডাইনিং টেবিলে। প্লেট থেকে একটা মিষ্টি তুলে বলে, “আজ অফিসে খুব খাওয়া হয়েছে। শুধু চা খাব”।
-যাহ্‌ তাহলে ওগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। এই “সু” তুই ডিমের ডেভিলটা খেয়ে নে। বাকিটা রাত্রে সবাই খাবে। সুতনুকা অগত্যা ডেভিলটা মুখে চালান করে।
ডাক্তার-বাপি ফিরে এসেছেন প্রায় সাড়ে-আটটায়। ফিরেই চিকার-“বউমনি”।
রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে সুতনুকা অবাক। দু-হাতে ভর্ত্তি প্যাকেট। পুরোটাই খাবারের বুঝতে সময় লাগে না। এবার সুতনুকার হয় মাথাটা খারাপ।
-নে, চিকেন মাঞ্চুরিয়ান আর ফ্রায়েড রাইস রয়েছে।
-বাপি একবার বলবেন তো। আমি কষ্ট করে নতূন প্রিপারেশান্‌ করলাম।
-কি করে জানব বউমনি। আমায় ফোন করেছিলি।
-যাক, সব রাখা থাকবে।
-আচ্ছা দাড়া একটা প্যাকেট ড্রাইভারটাকে দিয়ে দিই।
শাশুড়ি এবার উঠে আসেন, খানিক রাগ রাগ মুখ করে বলেন, “ওকে এখন পাবে কোথায়। তার চেয়ে রাখা থাক। সকালে মনা’র মাকে কিছুটা দিলেই হবে”।
টেবিলের ওপর রাখা হয় প্যাকেট। ডাক্তার-বাপি যান বাথরুমে। স্নান সেরে যাবেন পূজোর ঘরে। এই উনার এক অভ্যাস। সকাল-সন্ধা দুবেলায় ঠাকুর ঘরে একবার যাওয়া চাই। নইলে রাতের ঘুমই হবে না। এমনকি বাইরে গেলেও রাত্রে স্নান সেরে ধূপ জ্বালানো অভ্যাস।
দীপুর অবশ্য এসব ব্যাপারে কোনও বিকার নেই। উনি বিছানায় শুয়ে বই পড়ছেন। মা যথারীতি টিভি’র সামনে বসে। খাবারগুলো যে নষ্ট হবে তা নিয়ে কোনও চিন্তায় নেই। আসলে এ বাড়ির কেউ টাকাটা নিয়ে ভাবেই না।
প্রায় আধঘন্টা বাদে পূজো সেরে ডাক্তার-বাপি বসেছেন মায়ের পাশে। চলছে নানা কথা। মা-র শুরু হলো অতসীদির গল্প- ফেয়ারওয়েল, আর বাপির পেশেন্ট।
সুতনুকা মাঝেমধ্যেই রান্নাঘর থেকে কথার পিঠে কথা চাপাচ্ছে। এই সময়টায় সুতনুকার দিনের সেরা সময়। বাড়ির সকলে একসাথে।
ঠিক দশটায় সকলে খেতে বসেছে। ডাক্তার-বাপির তো নতূন প্রিপারেশান্‌ পেয়ে খুব আনন্দ। বেশ তারিয়ে তারিয়ে খাচ্ছেন। দীপুর আবার এক রোগ খাওয়ার সময় কিছুতেই কথা বলবে না। ওদিকে ডাক্তার-বাপি কথা ছাড়া খাওয়া ভাবতেই পারেন না। খাওয়া শেষ হলে উঠে পড়ে দুজন। খালি বসে থাকে মা ও সুতনুকা। দুজনের সব গোছানোর কাজ শেষ করতে করতে প্রায় এগারোটা।
শেষপর্যন্ত ‘সু’ যখন শুতে গেল দীপু ঘুমিয়ে পড়েছে। ভাল করে সুতনুকা একবার তাকায় দীপুর দিকে। মানুষটা সত্যিই আত্মভোলা। একদম বাচ্চাদের মত শুয়ে রয়েছে। বিছানায় টানটান হয়ে চাদরটা টেনে নেয়। চাদর গায়ে দেওয়া সু-এর বহুদিনের অভ্যাস। ভাবে- আরোও একটা দিন পেরলো। দীর্ঘশ্বাস একটা বেরিয়ে আসে দীপুর দিকে তাকিয়ে। মাথার মধ্যে ঘোরে বৈচিত্রহীন প্রায়-অবসর জীবনের নানা দিনলিপি। এরই ফাঁকে কখন ঘুমিয়ে পড়ে টেরও পায় না।

Comments

Popular Posts