ভোরের রকমফের নানান ভাব ও ভাবনা তৈরি হয় মনে। এই ধরা যাক …
পাশ দিয়ে এক মিষ্টি গন্ধের সুবাস পেরোতেই মনটা উড়ুউড়ু হয়। অবশ্য মনেরই বা দোষ দেয় কিকরে - "সুন্দর সর্বত্র পূজ্যতে" এই মন্ত্র সারাটা জগৎ জুড়ে চলছে।
কি আর করা পাশে পাশে হাঁটা শুরু করে অলীক সুগন্ধীর সুবাস নিয়ে। চুলোয় যাক ফুল-গাছ-লতা-পাতা !!
তবুও কখনো হাঁটতে-হাঁটতে ভাবনা জাগে - একটু আগে তো এভাবে মন দেখেনি তাহলে এখন কেন ?
নিমেষে বাতাসে ভাসে - তুই পুরুষ আর ও নারী ।
সে চুপ থাকে, কাকেই বা জবাব দেবে।
বেশ কয়েক পাক পেরোনোর পর হুঁস ফেরে - মহিলা নেই, কখন যেন সুগন্ধ অজান্তেই হারিয়ে প্রকৃতির সুগন্ধে মিশে গেছে। ইতিউতি চেয়ে দেখি সুমিষ্ট শরীরি ভঙ্গিমায় উনি পার্কের বেঞ্চ-এ বসেছেন। আলো কতটা বেড়েছে তাতে অবশ্য বুঝতে পারেনি, কারণ প্রকৃতির রুপের ছটা সব আলোকেই ছাপিয়ে যায়। অগত্যা —— একলা চলা।
বেশ কয়েক পা যেয়ে ভাবনাটা জাগে - আচ্ছা একই ভাবনা কি উনার মধ্যেও হচ্ছিল ?
পবন দেবতা আবার গর্জান - তোর কি মনে হয় পুরুষ একলাই শরীর ভালবাসে নারী নয় ! আজব বেকুফ তুই ।
দ্রুত হাঁটতে শুরু করে। বেশ কিছুটা এগোতেই শরীরে ঘাম দেয়। এনার্জি খরচ হচ্ছে, হরমোনের ক্ষরণ বদলে যাচ্ছে।
নতুন এনার্জি প্রকৃতি দেওয়া শুরু করেছে। নতুন সুগন্ধী। পাশ দিয়ে একটি বাচ্চা হেঁটে চলেছে। অলীক পা বাড়ায় বাচ্চার তালে-তালে ।
ঘটনাটা এখানে শেষ হলেই ভাল ছিল কিন্তু সে যখন পার্ক থেকে বেরোচ্ছে নিজের ভুঁড়ির দিকে নজর পড়ে। বাড়ি ফিরে আয়নায় দেখে নিজেকে। চুলে পাক ধরেছে। শুধু পাক ধরেনি মনে। এখনও বাচ্চা রয়ে গেছে।

Comments

Popular Posts