অলীকের মর্নিং-ওয়াক

ভোরের রকমফের নানান ভাব ভাবনা তৈরি করে অলীকের মনে। এই ধরা যাক আজ সকালের ওয়াকপাশ দিয়ে এক মিষ্টি গন্ধের সুবাস পেরোতেই মনটা উড়ুউড়ু হয়। অবশ্য মনেরই বা দোষ দেয় কিকরে - সুন্দর সর্বত্র পূজ্যতে এই মন্ত্র এই মূহূর্তে সারাটা জগৎ জুড়ে চলছে অলীকই বা তার বাইরে যায় কিকরে।  তবুও হাঁটতে-হাঁটতে ভাবনা জাগে কৈ একটু আগে তো এভাবে মন দেখেনি তাহলে এখন কেন ?
নিমেষে সমগ্র বায়ূমন্ডল জুড়ে ঘোষণা শুরু হয় - তুই পুরুষ আর নারী। তুই দেহ ওটাও দেহ। বাকিটা কি আর বলতে হবে !!
অলীক চুপ থাকে, কাকেই বা জবাব দেবে। তার মন বলে - অভ্যন্তরীন গোলোযোগগুলো সেরে গেলেই নারী-পুরুষ সমস্যা কেটে যাবে।  কি আর করা পাশে পাশে হাঁটা শুরু করে অলীক সুগন্ধীর সুবাস নিয়ে। চুলোয় যাক ফুল-গাছ-লতা-পাতা !! চুলোয় যাক ভদ্রতাবোধের সৌজন্যতা !!  একটু তো মন ছোঁকছোঁক করতেই পারে।
বেশ কয়েক পাক পেরোনোর পর হুঁস ফেরে - মহিলা নেই, কখন যেন সুগন্ধ অজান্তেই হারিয়ে প্রকৃতির সুগন্ধে মিশে গেছে। ইতিউতি চেয়ে দেখি সুমিষ্ট শরীরি ভঙ্গিমায় উনি পার্কের বেঞ্চ- বসেছেন।  আলো কতটা বেড়েছে তাতে অবশ্য বুঝতে পারেনি, কারণ প্রকৃতির আলোর ছটা সব আলো ছাপিয়ে যায়।  অগত্যা —— শুরু হলো একলা চলা। বেশ কয়েক পা যেয়ে ভাবনাটা জাগে - আচ্ছা আমার ভেতর যা হচ্ছিল তা কি উনার মধ্যেও হচ্ছিল ? তাহলে কি পুরোটায় ট্রান্সমিটার-রিসিভারের খেলা !
দেবদত্তের ঘোষণা আবার হয় - তোর কি মনে হয় পুরুষ একলাই শরীর ভালবাসে নারী নয় ! আজব বেকুফ তুই
অলীক আরোও বেশ কয়েকশহস্র পা এগোয়; এখন শরীরে ঘাম দিয়েছে, দ্রুত এনার্জি খরচ হচ্ছে, মনটা বদলে যাচ্ছে। নতুন এনার্জি প্রকৃতি দেওয়া শুরু করেছে।  নতুন সুগন্ধী। পাশ দিয়ে একটি বাচ্চা হেঁটে চলেছে। অলীক পা বাড়ায় বাচ্চার তালে তালে ।

Popular Posts