ভোর কথা কও

অনেকদিন পর ভোরের আলোর পথ ধরে পার্কে হাজির অলীক। আকাশমনি গাছটা একইভাবে দাড়িয়ে। পাশের দেবদারু বর্ষার প্রতীক্ষায়। পাতাগুলি ভোরের মিষ্টি বাতাসে ইনিয়ে-বিনিয়ে কথা বলে চলেছে নিজেদের মধ্যে। প্রশ্ন জাগে মানুষের মতন গাছেদেরও কি আড্ডা জমে !  ওরাও কি কথা বলে ! সেই কবে স্যার জগদীশ চন্দ্র বোস বলেছিলেন গাছেদের প্রাণ আছে।  কিন্তু তার বহিঃপ্রকাশ দেখার ক্ষমতা কি সকলের থাকে। কেউ কি দেখে পাতাদের আনন্দ বা গাছেদের বর্ষার আগমনী গান।  আমরা প্রতিনিয়ত শুধুই এগোনোর ইঁদুর দৌড়ে সামিল, কিন্তু ওরা ?  ওরা কি তাহলে বেশি স্থির !  
এই তো পার্কের বাচ্চাটা একমনে খেলা করে চলেছে চিন্তা নেই খাবারের স্নানের শোবার। জানে সবই হয়ে যাবে।  বাপি-মা আছে ।  আমাদের বাপি-মা কি ঈশ্বর !  তার থাকা-নাথাকা কি দেখা যায়।  সমস্যার শুরু সেখানেই। দেখা যায় না, উপলব্ধি করা যায়। উপলব্ধির স্তরে আসা দরকারি তা কারোও সারা জীবনেও হয়না আবার কারোও শৈশবেই হয়ে যায়।  বড় একটা শ্বাস নিয়ে হাঁটা দেয় অলীক।  দম দেওয়া ঘড়ির মতন নিজেকে পার্কের চারপাশে পাক দিতে, থামার উপায় নেই। সবই মেকানিক্যাল। হাতের ব্যান্ড ঘোষণা করবে ক্যালোরি কতটা ক্ষয় হলো আজ।  অবাক লাগে সব দেখে - এক যুবক কানে হেডফোন গুঁজে ডন-বৈঠক দিচ্ছে। একোন সমাজ - শরীরে যন্ত্রের বিষ ধারণ করে শরীরচর্চা ! আরোও কয়েক পা এগোতেই দেখে পাড়ার নীপাদিদিকে, শরীরচর্চায় মেতেছেন।  মধ্য চল্লিশে পৌঁচেছেন, কিন্তু টানটান শরীর বহু ছেলের মাথা ঘুরিয়ে দেবেন।  বিষয়টা উনি বেশ এনজয় করেন সেটা তার হাবেভাবে বুঝিয়েও দেন। অলীককের পাওনা মিষ্টি একটা হাসি। সেই হাসিতে অলীকতো কোন ছার স্বয়ং ব্রহ্মাও কুপোকাৎ হয়ে যাবেন, তা পাড়ার উঠতি যুবকেরা কেন বারবার চাঁদার জন্য যাবেনা !  এতো গেল মানুষের কথা, অলীক আজকাল গাছেদের সাথে কথা বলে। তাদের ভাষা বোঝার চেষ্টা করে। বছরে একবার স্নানের সুযোগ পায় পাতাগুলো। ধূলো মেখে প্রতীক্ষা অনবরত- তুমি আসবে বলে .
আরোও দুপা বাড়াতেই নয়নতারা ফুলের থেকে ডাক আসে - অলীক অলীক
অলীক দেখেনা, তার দৌড় শুরু হয়েছে। ক্যালোরি খরচের দৌড়। এইসময় তাকাতে নেই। দেখতে নেই। শুনতে নেই। 

Popular Posts