অ্যালকেমির খেলা!!

খোলা জানালা দিয়ে সকালের রদ্দুর এসেছিল, কিন্তু তার সাথে কথা হয় নি - অবশ্য অলীকও মুখ ফিরিয়ে ছিল।  রাত্তিরের বৃষ্টি গ্রিল, গাছ, পাতা সব কিছুই ভিজিয়ে গেছে।  রাত্তিরের বাতাসে, মাটিতে এমনকি পাশের জাম গাছ-টাতেও ছিল বৃষ্টির সোঁদা গন্ধ।  টপ টপ করে জল পড়েছে মাটিতে।  প্রায় শেষ রাত্তির অবধি অলীক জেগেছিল, ঘুম আসেনি।  নানান খবরে ঘুম উড়ে যায়।  তারই মাঝে বেডরুমে ছেলেকে দেখে আসা।  লাল পাতাবাহার গতকাল অনেক কথা বলেছে।  সে বলেছিল সকালের রোদ্দুরের কথা।  বলেছিল সকাল হলে রোদ্দুরে কড়া পাকে চান করার কথা।  অলীক শোনে নি, সে তো কোনোওদিনই কারোও কথা শোনে না।  তার মনে পড়ে বহুদূর থেকে ভেসে আসা কটি লাইন - অমলকান্তি রোদ্দুর হতে চেয়েছিল। 
অনেক ভেবেছে কথাটা। নানান বিজ্ঞ-অভিজ্ঞ ব্যাক্তির কাছে পেড়েছেও কথাটা। নাহ্ মানেটা পরিস্কার নয়।  সে তো আলো হতে চায়।  তাহলে কি রোদ্দুর শুধুই কবির কল্পনা।  আলো আর রোদ্দুরের ভাব এক!  রোদ্দুর ফিসফিসিয়েছিল, বলেছিল - আমি কারণ, আলো ফল। অলীক ফিসফিসানি থামাতে জানে না, সে বোঝেও না কে যে কখন কোথায় ফিসফিসিয়ে চলেছে।  মাথায় ঘুরপাক খায় তাহলে ছায়া কে?
ছায়াও আমি, আলোও আমি। 
তাহলে আমি কে?
তুমিও আমি। 
মানে? 
পাগলের পাগলামি! যত্তসব।  ছায়া হলো নগেনের বউ। বউ জানো বউ!!
নাহ্। আমি শুধুই আলোকে জানি।  রোদ্দুর আছে তাই আলো আছে।  কারণ শুধুই ফলকে জানে।
অলীক স্বপ্নের ঘোরের মধ্যে দিয়ে চলেছে।  তার বন্ধু এক সময় বলেছিল এই দেখ কি বলেছে - সাদা-কালো কোনোও রং নয়!
অলীক এখন জানে সাদা-কালো সত্যিই রং নয়। আলো আছে তাই সাদা, ছায়া আছে তাই কালো।  বেলা পড়েছে, রোদ্দুর ফিরে গেছে অন্যকোনে, অন্যখানে। অলীক গ্রিল দেওয়া বারান্দায় দাড়ায়। লাল পাতাবাহারের লাল রং-এ জল দাড়িয়ে আছে একফোঁটা। রোদ্দুর পড়ে জল লালচে-সোনালি মুক্তো বনেছে।  অলীক ভাল করে ঝুঁকে দেখে, আরোও কাছে এসে দেখে। জল-মুক্তো সব এক। শুধুই আলোর অ্যালকেমির খেলা!!
হাত বাড়িয়ে ধরতে যায়, ধরেও ধরে না।  লাল পাতাবাহার যে কষ্ট পাবে।  এখন বোঝে লাল পাতাবাহারের কথা - কেন সে বলেছিল সকালে রোদ্দুর আসবে, চান করে নিও।  অলীককে তো লালচে-সোনালি মুক্তো হতে হবে।  অপেক্ষায় থাকে অলীক পরের সকালের ...।  




Popular Posts