অমলকান্তি রোদ্দুর হতে চেয়েছিল

খোলা জানালা দিয়ে সকালের রোদ্দুর এসেছিল, কিন্তু তার সাথে কথা হয় নি - অবশ্য সে মুখ ফিরিয়েও ছিল।  রাত্তিরের বৃষ্টি গ্রিল, গাছ, পাতা সব কিছুই ভিজিয়ে গেছে।  রাত্তিরের বাতাসে, মাটিতে এমনকি পাশের জাম গাছ-টাতেও ছিল বৃষ্টির সোঁদা গন্ধ।  টপ টপ করে জল পড়েছে মাটিতে।  প্রায় শেষ রাত্তির অবধি জেগেছিল, ঘুম আসেনি।  নানান খবরে ঘুম উড়ে যায়।  তারই মাঝে বেডরুমে উঁকি মারা।  ফ্রিজের থেকে খাবার বার করা।  কেক-পেস্ট্রি সাবাড়।  আরোও অনেককিছু।

ব্যালকনির লাল পাতাবাহার গাছটার জেল্লা বেড়েছে।  নিয়মিত জলের ফল।  সেল্ফহিপ্নোসিসের মতই সে লাল পাতাবাহারের সাথে কথা বলে।
গতকালও বলেছে।  বলেছে সকালের রোদ্দুরের কথা।  রোদ্দুরে কড়া পাকে স্নান করার কথা।  সব শুনে মনে পড়ছিল বহুদূর থেকে ভেসে আসা কটি লাইন - অমলকান্তি রোদ্দুর হতে চেয়েছিল। 

তার বন্ধু এক সময় বলেছিল এই দেখ কি বলেছে - সাদা-কালো কোনোও রং নয়!


এখন জানে সাদা-কালো সত্যিই রং নয়। আলো আছে তাই সাদা, ছায়া আছে তাই কালো।  বেলা পড়েছে, রোদ্দুর ফিরে গেছে পশ্চিমে।  সূর্যাস্তের সময় গ্রিল দেওয়া বারান্দায় দাড়ায় সে। লাল পাতাবাহারের লাল রং-এ জল দাড়িয়ে আছে। রোদ্দুর পড়ে জল লালচে-সোনালি মুক্তো বানিয়েছে।  অলীক ভাল করে ঝুঁকে দেখে, আরোও কাছে এসে দেখে। জল-মুক্তো সব একাকার।


হাত বাড়িয়ে ধরতে যায়, ধরেও ধরে না।



Comments

Popular Posts