পারলে ক্রিয়েটিভ নইলে পাগল !!!

সেকাল একাল নামে লিখতেই ভয় লাগে.. ভয় লাগে একালের অনেক কথায় লিখতে।  জানি সবাই বলবে ভয়ের কি আছে।  সোম ভাবে ভয় একটাই কোথায় কি বেরিয়ে যায়।  অনেকেই দেখি ইউটিউবে অনেককিছুই আপলোড করছে। কেউ বা পায় বেশি হিট, কেউ কম।  যদিও সকলেই ভেবে চলেছে তার ইন্টেলেকচ্যুয়ালিটির তুলনা নেই।  সাধারণ মানুষ তার কথা বুঝতেই পারে না।  যদিও সরল সত্যিটা এই যে সে নিজেই সহজভাবে বলার কথা বলতে পারে না। 

সোম তার ছোটোবেলায় রেডিও-টেলিভিশান দেখে বড় হয়েছে।  তা পেরোলে আসে কালার টেলিভিশান।  তারও পরে এফ এম চ্যানেলের রেডিও গোটা রেডিও ব্যাবস্থাটা পাল্টে দিয়েছিল। আর এখন ইন্টারনেটের দৌলতে গোটা সমাজব্যাবস্থাটার খোলনোলচেটাই পাল্টাতে চলেছে।  এন্টারটেইনড হবার জন্য বিভিন্ন সাধন হয়েছে, তার ব্যাবহারও পালটেছে।  কেউ ব্যাবহার করে কাজে কেউবা অকাজে।  কিন্তু কাজ-অকাজের ডেফিনিশান ঠিক করবে কে।  আজকের যুগের সবকিছুই বোধহয় টাকা রোজগারের উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।  যেখানে টাকা আসে তাই কাজ, যেখানে টাকা নেই তাই অকাজ।  এই সহজবোধ্য ডেফিনিশান বেশিরভাগ মানুষ মেনে চলে।


সোমের মনে প্রশ্ন জাগে বেশ কিছুদিন ধরেই - তার বাপ-মা তাকে বড় করেছে, বাইরে পড়তে পাঠিয়েছে।  আজ সে বাইরে বড় টাকার চাকরি করছে।  বদলে সে বাপ-মা'কে কিছুই দেয় নি।  তাহলে কি তার বাপ-মা অকাজ করেছে???  তারা কিছুই পায় নি।  এই প্রশ্ন শুধু তার ক্ষেত্রে নয়, অসংখ্য মানুষের ক্ষেত্রে সত্যি।


এতো গেল মানুষের কথা।  প্রকৃতির কথা ভাবলে নিজের গায়ে জ্বর আসে।  তার প্রতিটা কাজই তো অকাজ।  সে তো বিনিময়ে কিছুই পায় না।  বাতাস যদি বদলে কিছু চাইতো আমরা কি দিতাম এই প্রশ্ন মনে জাগে।  আলো যদি বদলে কিছু চাইতো আমরা কি দিতাম প্রশ্ন জাগে মনে।  আজকের স্পেক্ট্রাম কেনাবেচার যুগে স্পেক্ট্রামের ক্যারিয়ার বাতাস টোল চাইলে আমরা কি দিতাম?  তার মনে পড়ে যায় বহু পুরোনো একটা কথা - কার সংসার কে ভোগ করে।  কার বাড়ি কে ভোগ করে।  কার বসত কে থাকে।


যিনি একথা বারবার বলতেন এখন তাঁর কথায় বোঝা যায় না।  শেষমেশ ডিপ্রেশান।  কথা বন্ধ, খাওয়া বন্ধ, স্নান বন্ধ।  পারলে নিশ্বাসটাও বন্ধ হয় হয়।  মেয়ের আদরে বেঁচে থাকা।  প্রাপ্তির ভাঁড়ারে কি জুটবে না ভেবেই মেয়ে হাত বাড়ায় নিজের পিতার দিকে। এই সার্ভিস কি টাকা রোজগারের উপায় খোঁজে??  সব কিছুই কি বেচা যায়??


আলাপ হয়েছিল বছর দশেক আগে এক মহিলার সাথে এনজিও চালান ক্যান্সার আক্রান্ত রুগীদের সেবায়।  প্রাণ্প্রাচুর্য্যে ভরা সেই মহিলার সাথে একথা সেকথার পর বলেন নিজের কথা - বড় ছেলের কথা।  ছেলেবেলা থেকেই ভীষণ দুষ্ট।  বাপের সাথে চিরকালের অমত।  বাপও বদলায় নি, ছেলেও না।  মেয়ে ছিল বাপ ন্যাওটা।  পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হলে বাবা বলেছিল বোনের বাড়ি কাজের লোক হবি।  ব্যাস!!  ছেলে সেই যে বেরিয়েছিল আর ফেরেনি।  ছেলে হারানোর যন্ত্রণা এখনও ভোলেন নি।  ভোলেন নি তার হাতের স্পর্ষ।  ভোলেন নি তার মাম্মাম ডাক।  যত্ন করে সাজিয়ে রেখেছেন তার বেডরুম, যদি আসে ফিরে।


আরেকটা ঘটনা না বললে অসম্পূর্ণ থেকে যায় সোমের আজকের ভাঁড়ার।  সে ছিল এক শনিবার।  দুপুরবেলা তাড়াতাড়ি ছুটে এসে বসে সোম রেডিওর সামনে উদ্দেশ্য শনিবারের বারবেলা, সেটা শেষ হলে দুপুরবেলার নাটক।  শীতের দুপুরে সূয্যিমামার তাপ ও বাতাসের দস্যিপনা দুইএ মিলিয়ে এক ভাললাগা পরিবেশ।  তারই মাঝে টানটান উত্তেজনা নিয়ে নাটক।  সব দেখা যেত।  মানুষের মধ্যে এমনিতেই একটা দেখার ক্ষমতা তৈরি হয়ে যেত।  দিদিভাই ছুট্টে এসে প্রায় ঘোষনার স্বরে বলে - চল চল পাগল দেখবি চল।
  
রেডিওর নাটক ফেলে বাইরে এসে দেখে বাক্স-প্যাঁটরা-কৌটো-বাটা সব গায়ে ঝুলিয়ে এক ঝোলাবুড়ো এগিয়ে চলেছে পিছন-পিছন ওপাড়ার বাচ্চারা হৈ হৈ আওয়াজ দিচ্ছে।

আজ সোমের নিজেকে আয়নার সামনে দাড়ালে সেই পাগলের কথায় মনে পড়ে আর ভাবে সব বয়ে নিয়ে চলেছি!  হালকা হতে হবে ভেবে আবার বসে লিখতে।  যত দিন যায় ততই উপলব্ধি হয় যত ভাল পাগল(ছাগল) ভাঁড়ারে তত ভাল ছবি।  সহজবোধ্য করতে পারলে ক্রিয়েটিভ না পারলে ছাগল। 









  

    


Popular Posts