ঈশ্বর কনা ৬


এতক্ষনে সময় হোল?  বেশ বিরক্তি নিয়েই প্রশ্ন ছোঁড়ে মৃদুলা।
না মানে।  একটু তোতলায় ঋত।

গলা ঝাঁঝিয়ে উত্তর আসে, যদি আমরা মারা যায় তাও তুমি মিটিং করবে।

ঠান্ডা করার উদ্দেশ্যে জবাব না দেওয়ায় ঠিক করে।  শ্রেয়াদি শান্ত করার উদ্দেশ্যে গায়ে হাত দেয় মৃদুলার।  ঋত ভেতরে ঢোকাই শ্রেয় মনে করে।

বেডরুমে পা রেখে আর এগোয় না।  বলার ভাষা নেই।  বিছানা জলে ভেজা, কার্পেট আগুনে পুড়ে ছাই, পাশের সেন্টার টেবিল টার কিছুই বেঁচে নেই।  বিছানার মাঝখানটা বড় করে ছেঁড়া।  হঠাৎ মাথায় আসে তার মিউজিকের ডাইরির কথা।  ওটাতো বালিশের তলায় ছিল।  দৌড় লাগায় বালিশের কাছে, এক ঝটকায় পাল্টায় ওটাকে।  ডাইরিটা ঠিক জায়গায় দেখে ধড়ে প্রাণ ফেরে।  বেশ খানিকটা অবাকই হয় সে - এত কিছুর মাঝে ডাইরি, আর কোনোও শোক নেই।  ধন্য পাগলামো!   কাউকে বলা যাবেনা।

ফোনটা করে পরিকে, "তুই এক্ষুনি আয়।  দরকার আছে।"

মৃদুলা ভেতরে ভেতরে খুশি হয়, জানে এবার সমাধান হবে।  তার কর্তার বাস্তব বুদ্ধি একদমই নেই।  কথা না বাড়িয়ে খাবারের প্ল্যান করে।  অর্ডার দেওয়ায় শ্রেয়।

ঘন্টাদুয়েকের মধ্যে সব ব্যাবস্থা করল পরি।  এসেই শুরু করল, "বৌদি কি করে হল?  বেশি কিছু হয় নি তো?  দাড়ান লোক ডাকি।  দাদা কাল কাজে যাবেন না।  নো স্টুডিও।"

রাত্তিরে শুয়ে দুজনের অপেক্ষা।  কে করবে বার্তালাপের শুরু।  ঋত একবার বন্ধ হলে আর কম্প্রোমাইস করে না।  শ্রেয়াদির সামনে ওভাবে বলা উচিৎ হয় নি বোঝে মৃদুলা।  পাশ ফিরে হাত বাড়ায়।  ঋত এড়িয়ে যায়, সরে যায় আরোও দূরে।  মৃদুলা দুষ্টুমি করে এগিয়ে আসে।  বেডের মধ্যে তো থাকতে হবে।  কতক্ষন আর ছেলেমানুষি চালায় ঋত, আদপে তো রক্তমাংসের মানুষ!

গভীর রাতে ঋত-এর শরীরে মাখামাখি হয়ে মৃদুলা মৃদু স্বরে বলে, " ভদ্রলোক, কোনোও প্রোটেকশান ছিল না।"  

এই সময়টা ঋত বেশ এনজয় করে, মনে হয় পৃথিবীটা তার হাতের মুঠোয়।  কোনোও মনীষি কেন যে বলেন নি রাগ-অনুরাগ, ভালবাসার তাপ-উত্তাপ এর সার্বিক পরিনতিই ঈশ্বর কনা, ফ্রম অধরা টু ধরা, এই হল সার।

ঋত মৃদুলার শরীরে আরোও তাপ সঞ্চার করে বলে, " হ্যাঁ গো তোমার শ্রেয়াদির ব্যাপারটা কি?  কিছু বলেছে কি তোমায়?  কি উদ্দেশ্যে আগমন?  মনে তো হয় না শুধু আমাদের সাথে সময় কাটানো।  দেখ আড়ালে কি চলেছে।"

শরীরের ভার হালকা করে পাশে ফেরে মৃদুলা।  ফিসফিসিয়ে বলে, "সে অনেক কথা বলতে সময় লাগবে।  এক বিশেষ কাজে দিদিভাই এখানে এসেছে।  তুমি পারলে হেল্প কোরো।"

এসময় বিশেষ সময়, কোনোও কিছুই না বলা হবে না ঋত-এর দ্বারা।  শুধু ঘাড় হেলিয়ে ডুব দেয় ফের মৃদুলা'র দেহতথ্যে।  বিয়ের এত বছর পরও নতুন মনে হয় এই বিশেষ সময়গুলোয়…..

Comments

Popular Posts