ঈশ্বর কনা 5


টেবিলে ওপারে ক্রিয়েটিভ ডিরেকটর মশাই। আজ রেহানা ঠিক উল্টোদিকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  লক্ষ করে ক্রিয়েটিভ মশাই আজ বারবার আড়চোখে তাকাচ্ছেন।  সাথে মিটিমিটি হাসি।  রেহানা উদ্দেশ্য পূর্ণ ভাবেই শরীরটা ঝাড়া দেয়।  না তাকানোর ভঙ্গিতেই প্রজেকসান্'র দিকে চোখ ফেলে।  একের পর এক ছবি দেখা শেষ হলে কোনোও দিকে না তাকিয়ে ক্রিয়েটিভ মশাই বলেন- রেহানা একবার চেম্বারে আসবেন।

দুজনে বসে বেশ খানিক।  রেহানা একবার গলাটা একটু ছাড়তেই সচেতন হন বাবু।  একটু নরম সুরেই বলেন, সরি ইফ ইউ মাইন্ড ফর ইয়েস্টারডেস বিহেভিয়ার।  আই সুড্ন'ট রিঅ্যাক্ট ইন দ্যাট ওয়ে।  ক্যান আই বরো দোস পিক্স? 

রেহানা নিরুত্তর থেকেই পেন ড্রাইভ্টা বাড়িয়ে দেয়।  আজ ঠিকই করে এসেছে কোনোও উত্তর দেবে না প্রোয়োজন ছাড়া।  শুধু মিটিং আর চেম্বারে একটাই তফাৎ করে নিয়েছে; ওখানে ছিল একদম ঢাকাঢুকি আর চেম্বারে একটা বোতাম খুলে বসেছে উদ্দেশ্য ক্লিভেজ দেখিয়ে কাজ বার করা নয়, উদ্দেশ্য মানুষটা কতটা ওপরের থাকের বোঝা।  ইতিমধ্যেই পরিস্কার চোখের ভাবভঙ্গিতে - হ্যাঁংলা শয়তানের খপ্পর থেকে মানুষের মুক্তি প্রায় অসম্ভব।  

রাত্তিরে ক্রিয়েটিভ মশাইএর বেডরুমের ক্রিয়েটিভিটি বোঝার তাগিদেই রেহানা বিছানায় পৌঁছয়, মাঝরাতে সব কাজ শেষ করে উঠতে গেলে ডিরেক্টর মশাই'র গোঁসা।  অগত্যা জড়াজড়ি করে বিরক্তিকর শুয়ে থাকা।

শেষ রাতে সব নিঝুম হলে রেহানার মুচকি হাসি নিজের দিকে- হোল তাহলে বিজয়।  দীর্ঘশ্বাস ফেলে আর ভাবে একটাও কি জিতেন্দ্রিয় পুরুষ নেই এজগতে।

সকালে ক্রিয়টিভ মশাইএর মুখটি দেখার মত।  কি করবে ভেবে পায় না।

রেহানা নিজেকে যতটা গুছিয়ে প্রেজেন্ট করা যায় সে ভাবেই এগিয়ে চলেছে।  হাসি মুখে বলে- কি হোল তাহলে, আমার চুজ করা মডেলটাই ঠিক না অন্য কিছু।
অন্যপ্রান্তের মাথা নত করা চেহারাটা দেখে আর ভাবে এও আরেক পাঁঠা।  জীবনের মানেটাই পরিস্কার নয়।  পাপ-পূণ্যের বেড়াজালে বদ্ধ।

ভুল ভেবেছিল রেহানা।  গলা খাঁকারি দিয়ে উত্তর শুরু করেন ডিরেক্টর মশাই।  রেহানা ইউ আর থার্টি ফাইফ, সো সেভেন ইয়ারস ওল্ডার দেন মি।  ফার্স্ট ডে দেখার পর আর থাকতে পারিনি, একান্তে পাবার ইচ্ছা তীব্র হয়েছিল।  বাধা ছিল একটাই - ইউ আর ভেরি পাওয়ারফুল, অ্যান্ড আই লাইক পাওয়ারফুল উম্যান্ ইন বেড।  দিস ওয়াজ দা রিজ্ন টু ইগনোর।  একটু উঠে আবার শুরু করে সে।  রেহানা নিরুত্তর।  অবাক হওয়ার পালা এখনোও শেষ হয়নি।  আই ওয়ান্টেড টু মেক ইউ এগ্রেসিভ অন বেড টু টেক সিউডো রিভেঞ্জ অন মি।  ওকে মাই ডার্লিং।  ইউ আর রিয়ালি পাওয়ারফুল ইন লাইফ অ্যান্ড বেড টু।  

রেহানার বাকশক্তিহীন অবস্থান ঠিক কতক্ষন চলেছিল মনে নেই।  তবে নিশ্চুপ হয়েছে সে এটা নিশ্চিত।  পাওয়ারফুল ও পাওয়ারলেস এর তফাৎ বোঝার উপায় জীবনে প্রথম উপলব্ধি হোল।  কেউ যে তাকে সিডিউস করতে পারে কল্পনা করে নি সে।  গায়ে একটা চাদর টেনে শুয়ে পড়ে আবার, কোনোও কথা বলার ইচ্ছে নেই।  এমনকি তাকানোরও ইচ্ছে উবে গিয়েছে।  মাঝে একটা ফোন এসেছিল অফিস থেকে রিসিভ করে নি।  পরে ফোন বন্ধ হয়ে গেছে নিজ নিয়মে, চার্জ না থাকায়।

দরজা খোলার শব্দেও কোনোও সাড়া না পাওয়ায় একটু অবাকই হয় ঋত।  ঢোকার পর ছিল আরোও চমক।  মৃদুলা ও শ্রেয়াদি সোফায় বসে।  কথা নেই মাঝখানে।  ঠিক কি হয়েছে বোঝার চেষ্টা করে সে।  একটু এগিয়ে লাইটটা অন করে।  

Popular Posts