ঈশ্বর কনা 4


                                                   
      গাড়িটা বিল্ডিং-এর বেসমেন্ট-এ পার্ক করে রেহানা।  মডেল কো-অর্ডিনেটর।  পেশাটার সাথে একটা গ্ল্যামার-গ্ল্যামার ব্যাপার জুড়ে আছে যা তার চেহারার সাথে মানানসই - পাতলা ছিপছিপে, হাইটটা আকর্ষনীয়।  মেইনটেইনড্ ফিগারে বুদ্ধির ছাপ পুরুষমহলে ম্যাজিক-এর মত কাজ করে।  স্কুললাইফেই তা উপলব্ধি করেছে রেহানা।  তার প্রথম শিকার ম্যাথ্স-এর স্যার। মনে পড়লে এখনো হাসি পায়।  টাইফয়েডের শিকার হয়ে স্কুল কামাই প্রায় একমাস।  অনেক ব্যাকলগ। অগত্যা - স্যার।  একবার মৃদু স্বরে বলতেই - বাড়িতে এস।

না ভেবে পরা মিনি স্কার্ট ও ভি-কাট-এর টপটি তে আগুন রয়েছে তা রেহানা টের পায় নি।  স্যার-এর দৃষ্টি তার চোখ খুলে দিয়েছিল।  প্রায় একমাস টানা গিয়েছিল স্যার-এর ফ্ল্যাট-এ।  সব ব্যাকলগ ধুয়ে-মুছে সাফ করেছিল সে।  বিনিময় - শুধু দর্শকাম। 
সেই প্রথম। একে একে ক্লাসমেট, অ্যাপর্াটমেন্ট-এর বন্ধু, সোশাল ফ্রেন্ড, প্রফেশনাল ফ্রেন্ড কেউই বাদ যায় নি তার আলগা চটক-এর অস্ত্র থেকে।  কিন্তু আজ এ কি হোল! তার সমগ্র সত্তায় আলোড়ন ঘটিয়েছে আজকের ঘটনা।

আয়নার সামনে দাড়িয়ে রেহানা নিজেকে খুঁটিয়ে পর্য্যবেক্ষন করে।  ভাল করে দেখে নেয় নিজের শরীরের ইউ এস পি গুলি।  চোখ-মুখ গুলিতে কালির ছাপ আছে কিনা বোঝার চেষ্টা।  টপ-স্ল্যাক্স খুলে প্রায় নগ্ন অবয়বের শরীরটাকে ভাল করে দেখে।  কানের সামনে এখনোও ভাসছে সেই গম্ভীর স্বর - মিস্ রেহানা, প্লিজ সিট প্রপারলি।  ইউ আর ট্রাইং টু ডাইভার্ট মাই অ্যাটেনশান্।

লাইট অফ করে বিছানায় শরীর এলিয়ে দেয়। সব আবরন ফেলে হারিয়ে যেতে চায় অন্ধকারের তীব্র আলিঙ্গনে।  পর্দার ফাঁক দিয়ে ভেঙে আসা আলোর স্পর্ষ নিয়ে গভীর থেকে গভীরতম নিদ্রা রাজ্যে প্রবেশ করে সে।

অফিসের কাফেতে বসে দিনের প্রথম কফিটা রেহানা রীতিমত রেলিশ্ করে।  কখনোও মুড ভাল থাকলে আলগ্রে'র অর্ডার দেয়।  আজ অন্য মুডে সে।  আইপ্যাড-এ প্রোফাইল চেইক করার দিকে মন দেয়।  আজ তাকে জিততেই হবে।  বিকেলে ক্লায়েন্ট মিটিং।  এই ব্রান্ড পার্ট্নারদের বায়নাক্কা সামলাতেই অস্থির হতে হয় মাঝেমাঝে।  উপরি পাওনা এই ক্রিয়েটিভ ডিরেকটর মশাই।  কালকের শব্দ্গুলো এখনোও ডাইজেস্ট হয়নি। চোখ্ বন্ধ করে পা ছড়িয়ে দেয় রেহানা।  তার প্রিয় ভঙ্গি।  এই বছর পয়ত্রিশ-এর নির্মেদ শরীরটা এখনোও আকর্ষণীয়।  বেশ ভেবে চিন্তেই আজ ড্রেস চুজ করেছে - অফ-হোয়াইট ট্রাউজার ও পিঙ্ক টিউনিক ফাটাফাটি কম্বিনেশান।  একটু ঢাকাঢাকীই করে এসেছে অন্যান্য দিনের তুলনায়।  হার মানার পাত্রী সে নয়।  কি এমন ব্যাপার - নিজের পছন্দের মডেলকে পুশ করা ও তার বিনিময়ে কিছু এক্স্ট্রা পেনি। এই তো! হ্যাঁ, এটা ঠিক রেহানা একটু গা-ঘেষেঁই নাহয় বসে ছিল। বাট ইট ওয়াজ ফাইন।  উই অল ট্রাই টু ডু দ্যাট।  সিডিউস, আ পার্ট অ্যান্ড পার্শেল অফ দি ডিল।  আজ পর্যন্ত কেউ বলতে পারবে না রেহানা চিপ্।  সি ওনলি এ্যাকসেপটেড অ্যান্ড স্লেপ্ট উইথ ইন্টেলেক্চুয়াল্স। গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে।  ফিল্মোগ্রাফিটা চেইক করা দরকার, অ্যান্ড সি নিড টু বিহেভ এ্যকর্ডিংলি।

চেতনজী, আই থিঙ্ক উই নিড টু চেঞ্জ আ বিট্। আশু বাধ সাধে ওপেন সেশন-এ।  রেহানা'র প্রগ্রেস মাঝপথে থামে।  

বাট হোয়াই ডু ইউ নিড দা চেঞ্জ ইন ইন্ট্রো পার্ট? হোয়াই কান্ট ইউ বি লিবারাল? একটু গলা ছেড়েই চেতনজী হাঁক পাড়ে আশুর উদ্দেশ্যে।  আফ্টার অল হি ইস দি সাউন্ড ডিজাইনার। 
ইট ইস মনটোনাস টু কনটিনিউ উইথ আ সিঙ্গ্ল ক্যারেক্টার। হোয়ার ইস দা ভ্যারিয়েশান?
দিস ইস দা রিজ্ন টু কন্ভার্ট থিম মিউজিক টু ক্যাবারে। আস্ক্ টু ঋত, হোয়াট আই সেইড। প্রশ্ন ছুড়ে দেয় তার দিকে তাকিয়ে।

ঋত মৃদু হাসে, জানে কোনোও চেঞ্জই হবে না।  এসব মানুষ ভীষণ এক্গুঁয়ে হয় - নিজে যা বুঝবে তাই ঠিক।

আলোক, এই প্রজেক্টের ডিরেক্টর অফ ফোটোগ্রাফি। সে ফুট কাটে- স্যরি ইউ ওন্ট বি এবল্ টু ডিভাইড দিস ইন্টু সট্স।  আই নিড টু ক্রিয়েট সাম পেস। অ্যান্ড অল্সো আই নিড টু মেক লিটারাল ওয়ার্ড্স ইনটু পিক্টরিয়াল। বাট টিল্ নাও আ অ্যাম এনগ্রস্ড। আ ওয়াজ রিয়ালি কিউরিয়াস টু প্রসিড।  

চেতনজী খানিক অশান্ত হয়েই বলেন, এটা ট্রিটমেন্ট। প্লিজ লিশন ফার্স্ট।  শুড উই ফিনিশ্ দা ফার্স্ট সেগমেন্ট, দেন ক্যান উই  ডিস্কাস? 

সবাই একমত হয় শোনার জন্য।  ঘটনা এগিয়ে চলে নিজ নিয়মে। শুধু ছন্দ্পতন হয় ঋত-এর।  হোয়াট্সআপে ক্রমাগত মৃদুলার মেসেজ ঢুকছে।  

চেতনজী আবার শুরু করেন বিশেষ ভঙ্গিমায়।

Popular Posts