ঈশ্বর কনা 3


ফ্ল্যাট-এ পা রাখতেই সাদর আহ্বান।  মৃদুলার ব্যাবহারে হেসেই ফেলে, এযেন নিজের বাড়িতেই গেস্ট।
- কি হোল হাসছ ?
- না কিছু না, এড়িয়ে যায় ঋত উত্তর।
- শ্রেয়াদির ফ্লাইট রাইট টাইমে ল্যান্ড করেছে।  কখন থেকে ওয়েট করছে তোমার জন্য, সুরে যথাসম্ভব মধু ঝরে পড়ে।  ঋত এখন বোঝে এসবই ভবিষ্যতের ঝড়ের ইঙ্গিত, তার আভাস এখনোও মৃদুলার কাছেও নেই।  ভারী অদ্ভুত, ঋত এসব নোটিশ করে নিজের আপন মনেই।  শুধু এসবেরই মাঝে কুড়িয়ে পায় নিজের মিউজিক ডিরেকশনের সূত্র।  কত সুর যে এভাবে তৈরি হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই।
- স্যরি, চেতনজীর জন্য একটু লেট হোল।  ভাল করে তাকিয়ে দেখে মৃদুলার বাটিক প্রিন্ট-এর কাপ্তানটির দিকে - নতুন।  ভালই রয়েছে।  অভাব নেই, কাজও নেই।  আজ এই মল তো কাল সেই।  শুধুই মার্কেটিং।  কত যে জিনিষের প্রয়োজন হয় ভগবানই জানেন।
- চেতন মালহোত্রা!!!  একরাশ বিষ্ময় ঝরে পড়ে শ্রেয়াদির মুখে।  হাউ লাকি ইউ আর।  ভাল করে তাকিয়ে দেখে ঋত - গোলগাল চেহারা।  মুখে সরলতা ও আভিজাত্যের মিশেল।

মিষ্টি মাপা হাসি ছঁুড়ে দেয় প্রত্যুত্তরে।  বোঝে না এতে ভাগ্যবান হওয়ার কি আছে।  এত পেশার মাঝে এও এক পেশা।  সৃষ্টিশীল কিছু করার তাগিদে শুরু হয় জীবন।  শেষপ্রান্তে এসে বোধ-এর পরিবর্তন হয়।  শেষের সময় উপলব্ধি হয় - বড় ভুল হয়েছে।  সৃষ্টির আনন্দে সৃষ্টি হয় নি; নাম, যশ, প্রতিপত্তি চোরাপথে আনন্দকে ছিনিয়ে নিয়েছে।

শ্রেয়াদি বাচ্চার সরলতা ভরা ঔৎসুক্যে প্রশ্নবান ছোঁড়ে - আচ্ছা এরা কেমন মানুষ হয়? আমার তো তোমাকে এত কাছে দেখেই অবাক লাগছে।  সেই কবে থেকে মৌকে বলছি - এবার ইন্ডিয়ায় গেলেই তোমার সাথে আলাপ করব।  তুমি আমাদের সেলিব্রিটি জামাই।

হেসে ফেলে ঋত।  তা কি মনে হচ্ছে - একস্ট্রা কিছু আছে?

সোফায় একটু ছড়িয়ে বসে শ্রেয়াদি।  বেশ একটা গাম্ভীর্য নিয়ে ঘোষনা করেন - পাগলা একটা ঘোড়া লুকিয়ে আছে ভেতরে।  নিয়মের বেড়া পরতেই চায় না।
- বাহ্ বেশ সুন্দর বলেছেন তো।  আপনি কি করেন?
- বরের পয়সায় খাই-দাই আর মুটোয়।
- মানে!
- এই যে, নিজের শরীররের দিকে ইঙ্গিত করে।  বিয়ের আগে ছিল 65, এখন 85
দুজনের আলাপচারিতার মাঝে মৌ ডাইনিং টেবিল সাজিয়ে ফেলেছে।  বিরিয়ানি।  ঋত-এর ফেভারিট।  সাথে ডেজার্টও আছে।

রাত্তিরে বিছানায় শুয়ে পা নাড়ানো ঋত-এর পুরোনো স্বভাব।  তুলতুল ঘুমোচ্ছে।  ওদিকে মৌ-শ্রেয়াদি গল্পে মত্ত।  কখন শেষ হবে কে জানে!  ভাল করে একবার তুলতুলকে দেখে।  সরল, নিষ্পাপ - কোনোও চিন্তাই নেই।  মাথায় ভিড় করে আসে শব্দ্গুলো - ঈশ্বর কনা, ডিফারেন্ট মুভি, পাগলা ঘোড়া …….। দিনের শেষে একবার হলেও মেমরি রিওয়াইন্ড করবেই।  চুলোয় যাক বিজ্ঞানীর ঈশ্বর কনা, তুলতুলের মত শিশুরাই এক-একটি ঈশ্বর কনা।

আচমকা ঘুম ভাঙে ঋত-এর।  পাশ ফেরে।  মৃদুলা অঘোর ঘুমে আচ্ছন্ন।  তুলতুল যথারীতি পা-মাথার দিক   পরিবর্ত্তন করে ফেলেছে।  চোরা ক্ষিদে-ক্ষিদে অনুভব হয়।  কি খাবে ঠিক করতে না পেরেই উঠে পড়ে বিছানা থেকে।  করিডোর পেরিয়ে কিচেনের দিকে পা বাড়াতেই ভেসে আসে ফিসফিস শব্দ।  খানিক কৌতুহলী হয়েই আড়ি পাতে শ্রেয়ার দরজায়।

- না, এখনোও কিছু বলিনি।  এত চিন্তার কি আছে?  কিছু ভেব না।  ঠিক ম্যানেজ করে নেব।  খানিক বিরতি দিয়ে আবার বলে - নো ডার্লিং একদম সময় পাই নি।  আর ও ভীষণ ব্যাস্ত।  তিন্নির কিছু হবে না।  তুমি একদম……. শেষ শব্দ্গুলো শুনতে পায় না।  
শব্দগুলোর কোনোও খেই খুঁজে পায় না ঋত।  এই শ্রেয়াদির সঠিক রুপটা কি!  

Contd.

Popular Posts