ঈশ্বর কনা


- হাই ঋত, হাউ আর ইউ?

- কাম্ ইন প্লিজ্, উঠে দাড়ায় ঋত সম্মান রক্ষার্থে। 

সোফায় গা এলিয়ে চেতন বলে - আই থিংক……ছোট্ট একটা বিরতি নিয়ে নিজের মনেই আওড়ায় - আই হ্যাভ আ প্ল্যান।
ঋত একটু সজাগ হয়।  এদের প্ল্যান মানে তো….. ভগবানেও আঁচ পাবে না।  যদিও ঋতের খুব একটা ইচ্ছে নেই এই মুহূর্তে প্ল্যান শোনার..।

- ক্যান ইউ সো মি দ্যাট মিউজিক।

- হুইচ! গলায় একটু মাপা বিরক্ত রেখে বলে সে।

চেতন পরিবেশটা হালকা করার উদ্দেশ্যে গলাটা একটু নামিয়ে বলে - ঋত সাহাব, ভাবছি একটা আইটেম সং দেব প্রথমে।  যদিও মনের মধ্যে ষোলোআনা ইচ্ছে এবার একটা হিট মুভি করে, এ তারই প্রকাশ।

- আইটেম সং!!! 

- ইয়েস মাই ডিয়ার, আই নিড টু কনভার্ট ইয়োর থিম মিউজিক; ওয়ান্ট টু পুট ওয়ার্ড্স অন ইট।

ঋত-এর চোখে-মুখে বিষ্ময়।  ন্যাশন্যাল এ্যাওয়ার্ড উইনার ডিরেক্টর - থিঙ্কিং এবাউট আইটেম সং!  স্থির থাকতে না পেরে পরি মানে তার সর্বক্ষনের সাথীকে দু-কাপ কফির অর্ডার দেয়।  রুমে একবার পায়চারিও করে নেয়।  হঠাৎ ঘুরে বেশ বড় এক শ্বাস নিয়ে কেটে-কেটে উচ্চারন করে - সো, ইউ ওয়ান্ট টু মেক আ প্রপার কমার্শিয়াল ফিল্ম।

- ইয়েস।  এনি প্রবলেম?

নিরুত্তর ঋত।  শব্দের কারবারি নৈশব্দকেই পছন্দ করছে এই মুহুর্তে।  ভেতরে একটা চোরা আনন্দের স্রোত বইছিল প্রথম চেতনজীর ফোনটা পেয়ে।  ঈশ্বরকে মনে-মনে ধন্যবাদ জানিয়েছিল - যাক অবশেষে একটা ভাল কাজ আসছে।

- ঋত হোয়াট হ্যাপেন্ড?  এনিথিং রং?

- নো, নট এট অল।  চলুন বসা যাক।

দুজনে ডুব দেয় কাজের মধ্যে।  প্রায় আটটার আশেপাশে প্যাক-আপ করে।  যাবার আগে চেতনজী কাঁধে হাত দিয়ে বলে - ভাল-খারাপ কিছুই নেই; আর্ট-কমার্স-এ কোনোও বিরোধ নেই।  নিজের কথা কিভাবে বলছ সেটাই বড়।  বিলিভ মি ঋত, দিস উইল বি আ ডিফারেন্ট মুভি।

গাড়ি ড্রাইভ করলেও মাথার মধ্যে ঘোরে সেই একই শব্দ - ডিফারেন্ট মুভি।  বিগত দশ বছরে কতবার যে এই কথা শুনেছে তার ইয়ত্তা নেই।  অ্যাড ফিল্ম দিয়ে শুরু, এখনোও চলছে।  নাম-ডাক হয়েছে।  অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছে।  শান্তি পায়নি।  স্যাটিসফ্যাকস্যান্ নেই।  কৈশরের দিনগুলোই ভাল ছিল।  নিজের আনন্দে গিটার বাজানো, সুর সৃষ্টি।  নিত্য নতুন শব্দ ও সুরের খেলা।  একটা ব্যান্ডও তৈরি হয়েছিল।  কোথায় যে সব ছিটকে গেল তার ঠিক নেই। 
Contd. 

Popular Posts