ঈশ্বর কনা



গল্পটি লেখার আগে কিছু কথা বলার প্রয়োজন বোধ করছি।  জীবনের কোন প্রান্তে এই ছোট্ট-ছোট্ট কোলাজ গুলি লুকিয়ে ছিল এবং আছে জানা নেই।  এই লেখাটির পরিনতিও জানা নেই।  শুধু এই জানি লেখার আনন্দে লেখা এই ঘটনাগুচ্ছ বাস্তব ও কল্পনার মিশেল।  নিজের ও সকলের ভাল লাগলে আনন্দ পাব জেনেই লেখাটি ব্লগ-এ লেখা শুরু করলাম।


   কম্পিউটার লগ অফ্ করে বেশ খানিক চুপ করে বসে ঋত।  এক স্তব্ধতা ঘিরে আছে চারপাশে।  সব কিছুর মাঝেও এক শূণ্যতা।  বেশকিছুদিন ধরেই এই মানসিক অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে চলেছে সে।  আজ যেন আরোও বেশি।  এতদিনের অপেক্ষার নিট্ রেজাল্ট জিরো।  বিষয়টা এমনই ডেলিকেট্ যে করোও সাথেই আলোচনা করা যাবে না।  কারণ সুক্ষতার মাপকাঠি সাধারণের কাছে মূল্যহীন।  দুটো ছোট্ট শব্দ - ঈশ্বর কনা বা গড্ পার্টিক্যাল্।  শুনলে সকলেই হাসবে।  এক প্রথিতযশা মিউজিক ডিরেকটারের অত্যাধুনিক কোয়ান্টাম ফিজিক্স-এর রিসার্চ-এর সম্পর্কটা কি!  হিগস্ ফিল্ড, হিগস্ - বোসন, ইলেকট্রণ, ফোটন … তার পেশার কোনোও কাজেই আসে না।  কিন্তু কি এক অমোঘ আকর্ষণ এই দুটি শব্দের ওপর - ঈশ্বর কনা।

মোবাইলের বাতিটা বার দুই বিপ করতেই সচেতন হয়।  এই প্রায় অন্ধকার রুমে বিভিন্ন ইকুইপমেন্ট-এর ছোটো-ছোটো আলোর বিন্দুগুলি দেখে সাধারন মানুষ বসে থাকবে না।  কিন্তু ঋত, তার কথা আলাদা।  জগতের কোনোও নিয়মই তার জন্য নয়।  সে ভেসে যায় তার অলৌকিক জগতে।  বাবা বলতেন মাকে - হয় তোমার ছেলে বড় কিছু হবে জীবনে, নইলে কিছু নয়।  মাঝামাঝি কোনোওকিছুই ওর জন্য নয়।

চেতনজীর মেইল দেখে একটু সিরিয়াস হয় - কামিং বাই হাফ-এন-হাওয়ার। একটু বিরক্তই হয়।  এইতো একটা মিউজিক ফাইনাল হয়েছে।  আজ আবার নতুন কি হোল। এরই মাঝে সেলফোনটা আবার বেজে ওঠে - মৃদুলা, একমাত্র স্ত্রী।  মিষ্টি সুরে বলে - হাই ডার্লিং।

- শোনো, কাম বাই এইট।

- কেন?

- শ্রেয়াদি আসছে।

- কে শ্রেয়াদি?

- তুমি চিনবেনা।  আমার কাজিন-এর বন্ধু।  শি ইজ কামিং ফ্রম তাইপে।  ওনলি টু মিট ইউ।

- আমার সাথে কি দরকার।

- ডার্লিং, তুমি এখন সেলিব্রিটি।

- তো!

- আরে বাবা, ইউ আর ইম্পর্ট্যান্ট টু মেনি পিপল।  আমারও তো একটা প্রেস্টিজ আছে।

- বাট…. ফোনটা কেটে যায় উত্তর দেওয়ার আগেই।

 ছোট্টো এই স্টুডিওটা বড় সাধের।  বেশ যত্ন নিয়েই বানিয়েছিল।  সিনেম্যাটিক বিদ্যার সমস্ত সম্ভার নিয়ে তৈরি করেছিল লাইট স্কিম।  এমনকি ছোটো-ছোটো প্রপস্গুলোতেও ছড়িয়ে দিয়েছিল এ্যাসথেটিক্স-এর খুঁটিনাটি।  প্রায় দু-বছর ধরে হয়ে গেল।  সকাল হলেই এখানে এসে বসা একটা নিয়মে পরিনত হয়েছে।  বেশ লাগে ……..নিজস্ব  দুনিয়া - শব্দের দুনিয়া।  এরই ফাঁক গলে প্রবেশ ঈশ্বর কনার।

গা ঝাড়া দেয় ঋত।  পুরোনো দিনের কথাগুলো চাগাড় দেয়।  ছেলেবেলার দিনগুলো, কলেজ লাইফ, প্রেম, বিয়ে  আক্ষরিক অর্থে প্রেম হয়েছিল একবারই - সুরের সাথে, শব্দের সাথে।  দ্বিতীয়বার অর্থাৎ মৃদুলার ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারে নি।  তৃতীয়বারের প্রেমটাই সার্থক - সন্তান।  বা……বা……করে ডাক আর তিন কামরার ফ্ল্যাট- ছোট্টো টলমল পায়ে।  সব ভুলিয়ে দেয়।                                                                       Contd.

Comments

Popular Posts