দ্যূতি

দ্যূতি
দেবাশিস্‌ ভট্টাচার্য্য
সন্ধের পর থেকে নন্দন চত্তরটা কেমন যেন একটা মেলা মেলা রুপ নেয়। সে এক চিত্র-বিচিত্র। এ-বলে আমায় দ্যাখ, তো ও বলে আমায় দ্যাখ। আসলে পুরোটাই স্ব স্ব ক্ষেত্রে ঠিক। মাঝে মাঝে মনে হয় সৃষ্টিকর্তা সকলের মধ্যেই সৃষ্টি ভরে পাঠিয়েছেন ও সকলেই তার প্রকাশ ও প্রমানে ব্যস্ত।
ঐ যে দূরে রেলিং-এর ওপরটাতে চুপ করে বসে আছে ঋত। ও মাঝেমধ্যেই এখানটাই এসে চুপটি করে বসে থাকে। কাজ করে টেলিভিশন্‌ মিডিয়াতেই, তবে বিরাট কিছু না। আসলে বেশি কিছু করার ইনস্‌পিরেশান্‌টাই নেই।
দূরে দেখা যায় একটি ছেলে আসছে- ছেলে না বলে যুবক বলাই ভাল। নাম দীপ। এখন থাকে দিল্লীতে, প্রায় সাত বছর বাদে কলকাতায় এল। আজ এসেছে নন্দনে, ওর ঋতদার সাথে সময় কাটানোর জন্য। শহরটা ছেড়ে গেলেও কিছু মানুষের সাথে যোগ রয়েই যায়, ঋত তাদেরই মধ্যে।
খানিকবাদে দেখা যায়- ঋত ও দীপকে ঘিরে একটা জটলা হয়ে গেছে। আসলে পুরো নন্দন চত্তরটাতেই বেশ কিছু মানুষ ভাগ করে রয়েছে। দীপ ভারী অবাক চোখে সব কিছু দেখতে থাকে। ভাবে, এসেছিল ঋতদার সাথে দেখা করতে, তা নয় দেখা হল অনেকের সাথে। বিশ্ব, পরম, ভীষ্ম, শ্রেয়সী, রত্না...... কার কথা ছেড়ে কার কথা বলব। অনুভব হয় একমাত্র ঋতদাই বদলায় নি, বাকি সব বদলে গেছে। একজনই শুধু ভীষণভাবে আকর্ষণ করেছে, আজই প্রথম আলাপ, নাম- দ্যূতি। দেখা যাক কোন দিকে সর্ম্পকটা গড়ায়। দীপ ঋতদাকে নিয়ে বেরোয়। মনে মনে ভাবে ফোন নম্বরটা পরে ঋতদার কাছ থেকে নিলেই হবে।
দিল্লীর গ্রীষ্মকাল, প্রচন্ড গরম, রাত্রিবেলা- একটা রেস্তোরা; যামিনী অনেকদিন বাদে বসেছে হিতেশের সাথে। হিতেশ রয়েছে একটি চাটার্ড-ফার্মে, যামিনী একটি এড এজেন্সির ভিশুয়ালাইসার। প্রায় দুবছর হোল দুজনের আলাপ- মাধ্যম দীপ। দীপ দুজনেরই খুব ভাল বন্ধু। ভারী মিল রয়েছে তিনজনের, তিনজনই ইনট্রোভার্ট। অনেকেরই অবাক লাগে তিন ইনট্রোভার্ট কি করে একসাথে সময় কাটায়। সত্যি বলতে কি- অনেকেরই ধারনা নেই মুখ বাদ দিয়ে যে ভাষা তার জোরই সবচেয়ে বেশি ও বাক্‌ময়।
বাড়িতে আসার পর থেকেই মা বারবার হাইল্যান্ড পার্ক-এর শপিং মলটার কথা বলেছে। জায়গাটা নাকি অসাধারণ। দুপুরে এসেছে মাকে নিয়ে। তারপর ঋতদার বাড়ি। আসলে মাকে সেভাবে সময় দেওয়া হয় না তো- তাই। দীপ ঘুরে ঘুরে সব দেখতে ভাবে- এই জায়গাগুলো সবই বদলে গেল। বেশ লাগছে পরিবেশটা। নিজের শহরের বদলে যাওয়া রুপটি বেশ উপভোগ করে দীপ। তার চেয়েও আনন্দ পায় মা-এর ছেলেমানুষি দেখে। যেন একটা বাচ্চা মেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটা দেখছে, ওটা নাড়ছে- কি সুন্দর জিনিস বেছে তুলছে। এসবেরই ফাঁকে দীপ একটু অন্যমনস্ক হয়েছিল। ঘাড়টা ঘোরাতেই থমকে দাঁড়ায়- দ্যূতি! মায়ের সাথে কথা বলছে বেশ খানিকটা দূরে। দীপ এগোতে গিয়েও আটকে যায়। শরীরে জাগে এক উদ্দীপনা। রক্ত প্রবাহ যেন বেড়ে গেছে সারা শরীরে।
ফেরার সময় ট্যাক্সিতে যেতে যেতে মাকে জিজ্ঞেসই করে বসে দ্যূতির কথা, অবশ্য নাম উল্লেখ না করে। মা খানিকটা অবাক হয়েই ঘুরে তাকায়, বলে- কেন জানিস না! ও তো দ্যূতি, ঋত-এর সাথে বিয়ে হবে কিছুদিনের মধ্যেই। তোকে ঋত কিছু বলে নি?! স্তব্ধতা ঘিরে ধরে দীপকে। ট্যাক্সি এগিয়ে যায় তার নিজস্ব গতিপথ দিয়ে।  
***যদি ভাল লাগে বলুন......পরের পার্টটা দেব

Popular Posts